বিধানসভায় যো’গ দিতে কলকাতায় গিয়েছেন গা’ড়ি ভা’ড়া করে, অসুস্থ ছে’লে’র ক’থা ভে’বে মন খারাপ চন্দনার

“প্রায় পাঁচ দিন হয়ে গেল নিজের ছেলেকে দেখতে পাইনি, সেইজন্যে মনটা খারাপ রয়েছে অন্যদিকে ছেলের শরীরটাও খুব একটা ভালো না, তাই অধিবেশন শেষ হলে বাড়ি চলে যাব”, বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়েই দরিদ্র বিধায়ক চন্দনা বাউরি এই কথাগুলো বলেছিলেন। এই দরিদ্র বিধায়ক চন্দনা বাউরি বাঁকুড়া শালতোড়া বিধানসভার মানুষের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা পেয়ে এখন বিধায়ক হয়েছেন।

গ্রামের মানুষ, সেইজন্যে শহরে প্রথম এসেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু আস্তে আস্তে সমস্ত কিছু মানিয়ে নিয়েছেন। এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা, বিধানসভার প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, এই সমস্ত কাজের মধ্যে নিজের সন্তানের কথা চিন্তা করে মন খারাপ করছেন চন্দনা দেবী। পাঁচ দিন ধরে সে কলকাতায় রয়েছে তার ছোট্ট সন্তানকেও বেশ কদিন হল দেখেনি।

তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, তার বিধানসভায় কেমন লাগছে? তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, “ভীষণ ভালো লাগছে। শুভেন্দু দা, শ্রীরূপা দি সবাই আমাকে সমস্ত কাজ বিষয়ে আস্তে আস্তে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আমি আস্তে আস্তে সব কিছু শিখছি”। এলাকার উন্নতি করার জন্য এবং গরীব মানুষের পাশে থাকার জন্যই মেজদাদার গাড়ি নিয়ে বাঁকুড়া থেকে বিধানসভার অধিবেশনে কলকাতায় এসে উপস্থিত হয়েছেন চন্দনা দেবী। গাড়ি ভাড়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না চন্দনা দেবীর, কিন্তু এই বিষয়ে যে তার মেজদা সাহায্য করেছেন সেটা তিনি সকলকে জানিয়েছেন।

চন্দনআ বাউরি বিজেপির’ সবথেকে দরিদ্রতম প্রার্থী। বিধানসভা নির্বাচনে তিনি টিকিট পাওয়ার পরই তার এলাকার সব মানুষের ভালোবাসা পেয়ে বিধায়ক হয়েছেন। নির্বাচনের জন্য প্রচার করতে গিয়ে সকলের নজর কেড়েছিলেন তিনি। মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী চন্দনা বাউরির হয়েও রোড শো করেছেন বাঁকুড়াতে। সকাল হতে না হতেই বাড়ির সমস্ত কাজ ছেড়ে নির্বাচনের প্রচারের জন্য তিনি প্রত্যেকটি মানুষের কাছে গিয়ে আবেদন করেছিলেন।

মানুষদের আশির্বাদ এবং ভালোবাসায় আজ চন্দনা দেবী বিধায়ক হয়েছেন। কিছুদিন আগেই বিধায়ক চন্দনা বাউরির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, সেখানে তিনি বলেছিলেন যে, “পঞ্চায়েতে গ্রামের যারা সমস্যা নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে বলা হচ্ছে চন্দনা বাউরির কাছে যেতে। চন্দনা বাউরী যদি সবকিছু করে তবে পঞ্চায়েতগুলি যেন চন্দনা বাউরির হাতে দিয়ে দেওয়া হয়। আমি সবকিছু দেখে নেব, শালতোড়া বিধানসভা দেখব পঞ্চায়েত দেখব। পঞ্চায়েত প্রধান যদি গ্রামের মানুষের সমস্যার সমাধান না করতে পারে তাহলে প্রধান যেন আমার হাতেই সমস্ত কিছু ছেড়ে দেয়, আমি একাই সব কিছু সামলাবো”।

জীবনে প্রথম পর্যায় রাজনীতিতে পা দেওয়ার পরেই তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, মানুষের মনকে যদি জিততে হয় তাহলে তাকে ভাল কাজ দিয়েই জিততে হবে। চন্দনা দেবী এখন বুঝে গেছেন যে শুধু শালতোড়ার মানুষ নয়, গোটা বাংলা তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সকলেই তাকে বিশ্বাস করে তাই সকলের বিশ্বাস রাখার দায়িত্বও তার।