ঘাটটি মেটাতে কেন্দ্রই ঋণ নিক, মোদী-সীতারমনকে চিঠি দিলেন একাধিক মুখ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি জিএসটির প্রাপ্য অর্থ বাবদ কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে। কেন্দ্রের দাবি করোনা মহামারীর আবহে এই মুহূর্তে রাজ্যগুলিকে জিএসটির দরুন বকেয়া প্রাপ্য মেটানো সম্ভব নয়। পরিবর্তে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন রাজ্যগুলির কাছে দুটি বিকল্প পেশ করেন। দুটি বিকল্পেই রাজ্যগুলিকে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে কেন্দ্রের এই প্রস্তাব মানতে নারাজ বিরোধী রাজ্যগুলি। তাদের দাবি, কেন্দ্রই বরং ঋণ নিয়ে রাজ্যের প্রাপ্য মিটিয়ে দিক।

সম্প্রতি জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জিএসটির বকেয়া প্রাপ্য মেটানো সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রথম বিকল্প হিসেবে রাজ্যগুলির কাছে প্রস্তাব দেন, “বিশেষ জানালা” আইনের আওতায় রাজ্য গুলি এই মুহূর্তে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ৯৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারে। ৫ বছরের মেয়াদে রিজার্ভ ব্যাংক‌ এই ঋণ দেবে। তার মধ্যেই রাজ্য সেস তহবিলের মাধ্যমে কেন্দ্রকে সেই ঋণ মিটিয়ে দেবে।

অর্থমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিকল্পটি হলো, রাজ্য চাইলে জিএসটির ক্ষতিপূরণের দরুন সম্পূর্ণ অর্থ অর্থাৎ ২ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকাই ঋণ হিসেবে নিতে পারে। তবে কেন্দ্রের দ্বারা প্রস্তাবিত দুটি প্রস্তাবই খারিজ করেছে তেলেঙ্গানা, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্রিশগড়। ইতিমধ্যেই এই রাজ্যগুলির তরফ থেকে কেন্দ্রের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের দাবি, জিএসটির ঘাটতি মেটাতে কেন্দ্র রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রাজ্যের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দিক।

কেরালার অর্থমন্ত্রী থমাস ইশাক কেন্দ্রের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, রাজ্যের তরফ থেকে এই দুটি বিকল্পেই আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে, জিএসটির ঘাটতি পূরণে কেন্দ্রই ঋণ গ্রহণ করুক। ভবিষ্যতে দীর্ঘকালীন মেয়াদের সেস বাড়িয়ে জিএসটির ঘাটতি মেটাবে রাজ্য। অপরদিকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামীর মতে, কেন্দ্রের প্রস্তাব বাস্তবায়িত করতে গেলে যথেষ্ট অসুবিধা এবং ব্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।