সিপিএম ও তৃণমূলের ঘরে ভাঙ্গন, বিধায়করা নাম লেখালেন বিজেপিতে

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক দল বদল করে চলেছেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। এবার, সিপিএম এবং তৃণমূল থেকে বিজেপিতে প্রবেশ করলেন বাংলার দুই বিধায়ক। বুধবার, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক স্বদেশরঞ্জন নায়েক এবং মালদহের গাজলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ দল ছেড়ে বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন।

এদিন নবাগত দুই সদস্যের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাদের দলের অন্তর্গত করে নেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উল্লেখ্য, পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর এলাকার শঙ্করপুরের বাসিন্দা স্বদেশরঞ্জন নায়েক দীর্ঘদিন ধরেই সিপিএম দলের সঙ্গে যুক্ত। ২০০৬ সালে তৃণমূলীয় নেতা সমরেশ দাসকে হারিয়ে বিধায়ক পদ দখল করেন তিনি। তবে, পরবর্তী ক্ষেত্রে স্বদেশ রঞ্জনকে হারিয়ে পুনরায় বিধায়ক পদ দখল করে নেন সমরেশ দাস।

২০১১ সালেও তৃণমূল নেতা অখিল গিরির কাছে পরাজিত হন স্বদেশ রঞ্জন নায়েক। তবে, দিঘা, শঙ্করপুর-সহ সমগ্র রামনগর এলাকাতে বেশ জনপ্রিয়তা আছে স্বদেশ রঞ্জন নায়েকের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে সেই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মেদিনীপুরের সিপিএম জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি ও রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর তরফ থেকে জেলার দায়িত্বে থাকা রবীন দেবের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল তার।

অবশেষে সিপিএম ছেড়ে বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন স্বদেশ রঞ্জন নায়েক। অপরপক্ষে, মালদহ জেলার গাজোলের প্রাক্তন বিধায়ক সুশীল চন্দ্র রায় প্রথমে কংগ্রেস দলের হয়ে ২০১১ সালে বিধায়ক পদ পেয়েছিলেন। এরপর দলবদল করে তৃণমূলে আসেন তিনি। এবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি দলে নাম লেখালেন তিনি। মালদহ উত্তর লোকসভার সাংসদ খগেন মুর্মুর নেতৃত্বে বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন সুশীল চন্দ্র রায়।