দুজনেই IAS টপার, ২ বছরেই ভাঙলো ভিনধর্মের বিয়ে, বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করা হলো আদালতে

মাত্র দুই বছর আগে প্রেম সম্বন্ধে আবদ্ধ হয়ে একে অপরের সঙ্গে সারা জীবন কাটানোর মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুজনে। জাতি-ধর্মের বেড়া টপকে, আত্মীয়-স্বজন, চেনা-অচেনা মানুষের বিদ্রুপ-বিদ্বেষ উপেক্ষা করেই গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন দুই আইএএস টপার। কট্টরপন্থীরা অবশ্য “লাভ জিহাদ” এর অভিযোগ তুলে গেল গেল রবও তুলেছিলেন। কারণ মেয়েটি হিন্দু, এবং ছেলেটি মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত।

বিরোধীদের সেই অভিশাপই হয়তো ফলে গেল তাদের জীবনে। তাই তো দুই বছর যেতে না যেতেই দম্পতির জোট ভাঙলো। তারা আর একে অপরের সঙ্গে থাকতে চান না। তাই ডিভোর্সের আবেদন নিয়ে রাজস্থানের ফ্যামিলি কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দুজনে। একসময় যাদের বিবাহ অনুষ্ঠান ধার্মিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে বেজায় ঝড় তুলেছিল, আজ তারাই ভিন্ন হওয়ার পথে। বিরোধীরা স্বভাবতই এই খবরে বেশ খুশি!

২০১৫-র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত টিনা ডাবি। সেবারেই দ্বিতীয় স্থানাধিকারী ছিলেন কাশ্মীর নিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত আথর আমির খান। ২০১৬ সালে আইএএস সংবর্ধনা মঞ্চেই তাদের প্রথম দেখা। এরপর প্রেম, প্রেমের পর বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হওয়া। পরিবারের তরফ থেকে অবশ্য কোনো বাধা আসেনি। তবে চেনা-অচেনা ব্যক্তিদের তরফ থেকে উঠতে থাকে নানা অভিযোগ।

কেউ দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত মহিলাকে ফুসলানোর অভিযোগ তোলেন আমিরের বিরুদ্ধে, তো কেউ আবার টিনার বিরুদ্ধে কোটার সুবিধা ব্যবহার করে সফল হওয়ার অভিযোগ তোলেন। কিন্তু, কোনো কুমন্তব্যতে কান না দিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে কট্টরপন্থীদের রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন দুজনে। উপরাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু, আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ, তৎকালীন লোকসভার স্পিকার সুমিত্রা মহাজনের উপস্থিতিতে রীতিমতো ধুমধাম করে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। তখন কে জানতো, তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের আয়ুষ্কাল এত স্বল্প হতে চলেছে?