তুফানগঞ্জে কালিপুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিজেপির বুথ সম্পাদককে পিটিয়ে খুন, গ্রেপ্তার ১

দুই ক্লাবের কালি পূজা নিয়ে খুনোখুনি হল তুফানগঞ্জে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম কালাচাঁদ কর্মকার। তিনি এলাকার বিজেপির নেতা বলে পরিচিত। ঘটনাটি ঘটেছে তুফানগঞ্জের নাককাটিগাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের চামটা গ্রামের কর্মকার পাড়ায়। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ওই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে রয়েছে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকার পরিস্থিতি আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এদিন সকালে স্বামীজি সংঘের চারজন পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বিপ্লব কর্মকারের ওপর। বিপ্লব চিৎকার করতেই এগিয়ে আসেন স্থানীয় বিজেপির বুথ সম্পাদক কালাচাঁদ কর্মকার। সেই সময় তাঁর ওপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা।

বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসতেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। এরপর কালাচাঁদবাবুকে নিয়ে যাওয়া হয় তুফানগঞ্জ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। জানা গেছে, তিন বছর আগে স্থানীয় স্বামীজি সংঘের কালীপুজো নিয়ে বিবাদের জেরে ওই ক্লাব দু-ভাগে বিভক্ত হয়। পরে স্বামীজি সংঘ ভেঙে নেতাজি সংঘের তৈরি হয়। তিন বছর থেকে আলাদা পুজো করে আসছে নেতাজি সংঘ। আর সেই কালীপুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে গন্ডোগোল তৈরি হয়।

অভিযোগ, সেই গন্ডোগোলের জেরেই বুধবার সকালে নেতাজী সংঘের সদস্য বিপ্লব কর্মকারের ওপর হামলা করে স্বামীজি সংঘের সদস্যরা। বিপ্লবকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কালাচাঁদ কর্মকার। তখনই দুই পক্ষের মাঝে পড়ে কিলঘুশি খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। সাথে সাথে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা তুফানগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি এই এলাকার বিজেপির বুথ সম্পাদক বলে পরিচিত। অন্যদিকে, যাদের দিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তারা তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত বলে এলাকায় পরিচিত। আর এই ঘটনাতেই রাজনৈতিক রং লেগেছে। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছোয় তুফানগঞ্জ থানার ওসি রাহুল তালুকদারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

বিজেপির বুথ কমিটির সভাপতি দুলাল বসাক বলেন,‘বিজেপি করার অপরাধেই কালাচাঁদবাবুকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।’ তৃনমূলের দাবি,এলাকায় কালীপুজো নিয়ে গন্ডোগোলের সুত্রপাত হয়েছে। এই ঘটনায় তৃনমূল জড়িত নয়। বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছে। ওই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ কমল বর্মণ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিন এবিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে কোচবিহারের পুলিশ সুপার কে কান্নান জানিয়েছেন,“ওই ঘটনার সাথে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। একই এলাকার দুই পূজা কমিটির মধ্যে গণ্ডগোলের জেরে ওই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই ঘটনায় আরও জড়িত রয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”