বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজো, কিভাবে করবেন আরাধনা, মিটে যাবে সব বাধা, দেখে নিন পুজোর সময়

প্রতিবছর মহালয়ার কিছুদিন আগে অথবা পরে হয় বিশ্বকর্মা পুজো। তবে এবারে কারিগরি শিল্প দেবতা বিশ্বকর্মা পুজো পড়েছে মহালয়ার দিন। এই দিন সমস্ত কারিগরদের ছুটির দিন। প্রত্যেক যানবাহন এবং যন্ত্রপাতিকে সকালবেলা স্নান করিয়ে পুজো করা হয় এই দিন। পুরাণে কথিত রয়েছে, শ্রীকৃষ্ণের রাজ্য দারোকা নগরির নিজের হাতে করে সাজিয়ে ছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। সে পবিত্র নগরীর পত্তন থেকে শুরু হয়ে আজও সেই যাত্রা চলছে।প্রতিটি শিল্পকর্ম শুরু করতে গেলে বাবা বিশ্বকর্মার আশীর্বাদ অবশ্যই দরকার পড়ে। বিশ্বকর্মা জন্ম বিষয়ে পুরানে নানা আখ্যানের অবতারণা করা হয়।পুরান মতে তার জন্ম হয়েছিল অষ্ট বসুর অন্যতম প্রভাসের ঔরসে দেবগুরু বৃহস্পতির ভগিনী বরবর্নিনির গর্ভে।

ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ মতে প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভিদেশ থেকে উৎপত্তি হয়েছিল বিশ্বকর্মার। বিশ্বকর্মা কে বেদে অজাত পুরুষ অথবা সনাতন পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।বিশ্বকর্মা বৈদিক দেবতা, ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলে ৮১ এবং ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋকবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সবদিকে পরিব্যাপ্ত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। তিনি ধাতা, বিশ্বদ্রষ্টা ও প্রজাপতি। ঋকবেদের যে অধ্যায়ে তাঁর কথার চর্চা রয়েছে সেই অধ্যায়কে বলে সতাপত্যা বেদ- এটি আসলে কারিগরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত আলোচনায় পূর্ণ।

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, কন্যা সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মা পুজো করা হয়।অন্যদিকে জর্জিয়ান ক্যালেন্ডার সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত হয়, বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই পুজো হয় ভাদ্র মাসের শেষ দিনে।দ্রিক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী এবারে সংক্রান্তি পড়েছে ১৬ তারিখ ৭ :৩০ এ। তবে পুজো করা হবে পরের দিন সকালবেলা।এই দিন সকালে স্নান করে পরিষ্কার জামা কাপড় পড়ে ঘরে অথবা মণ্ডপে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিশ্বকর্মা দেবের মূর্তি। প্রসাদ এবং ফুল উপাচারে করা হয় বিশ্বকর্মা অর্চনা। এছাড়াও দিতে হয় অক্ষত।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন