শুধুমাত্র মাস্কের জন্য প্রতিদিন বিল ৫ হাজার টাকা! ফের কাঠগড়ায় বেসরকারি হাসপাতাল

আমরা যে করোনার কারণে ফেস শিল্ড, মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার করে থাকি তার জন্য কত টাকার মতো খরচ হতে পারে দৈনিক একটু আন্দাজ করে বলুন তো? যদি শোনেন এইসবের জন্য দৈনিক ৫০০০ টাকা করে লাগে তাহলে কেমন লাগবে? সত্যিই অবাক হলেন? অবাক হওয়ার কথাই, এইসব করোনা কিটের জন্য দৈনিক ৫ হাজার টাকা এটাও কি সম্ভব? এমনটাই হয়েছে এবার একটি কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে করোনা রুগীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে দৈনিক ৫ হাজার টাকা যা শুনে হতভম্ব হয়েছে রাজ্যের স্বাস্হ্য দফতরও।

সেই কারণেই এবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালকে যাতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেয় রোগীর পরিবারকে। এর আগেও এই নিয়ে অনেকবার জলঘোলা হয়েছে, বারবার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে এই সব করোনা কিটের জন্য ১০০০ টাকার ওপরে নিতে পারবে না বেসরকারি হাসপাতাল গুলো। কিন্তু সেইসব কথা কানেই নিচ্ছে না এই বেসরকারি হাসপাতাল গুলো। তারা তাদের নিজেদের মতোই কাজ করে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তারা সেই কথা মানছে না। আসলে দেখা যাচ্ছে তারা টাকার অঙ্ক বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের বিল জুড়ে দিচ্ছে, যা নিয়ে প্রায় দৈনিক অভিযোগ জমা পরছে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে।

সম্প্রতি একটি ঘটনা সামনে এসেছে, ঘটনাটি অনেকদিন আগে ঘটেছে ঠিকই কিন্তু একেবারে অবাক করার মতো। নিউ আলিপুরের এক বেসরকারি হাসপাতাল বিপি পোদদার যারা একজন উপসর্গ হীন কোভিড রোগীর কাছ থেকে নয় দিনে ৪ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা নিয়েছে। যা শুনে আকাশ থেকে পরেছে স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন। এরপরেই সেই ব্যক্তির পরিবার অভিযোগ জানায় স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে।

সেখানে বিলের মধ্যে দেখা যায় আইসোলেশন চার্জ দৈনিক নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা, ভেন্টিলেশনের খরচ বাদে আরও অনেক আনুসাংগিক খরচ ধরা হয়েছে, আইসোলেশন তো দূরের কথা সাধারণ বেডের জন্য দৈনিক নেওয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এদিকে কোভিড প্রোটেকশন চার্জ হিসেবেও ধরা হয়েছে বিল যেখানে আছে গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, ফেস শিল্ড সব মিলিয়ে দৈনিক ৫ হাজার টাকা। এই কথা শোনার পরেই স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তরফ থেকে বলা হয় ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা যেনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় রোগীর পরিবারকে।