বিয়ে করার আগে সঙ্গীকে এই ৬টি প্রশ্ন অবশ্যই করুন, আজীবন থাকবেন সুখে!

জন্ম মৃত্যু বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে। এই তিনটি জিনিস আমাদের হাতে থাকে না। আমরা কখনোই নিজেদের জীবনসঙ্গী বেছে নিতে পারিনা। আমাদের জীবন সঙ্গী অনেক আগে থেকেই ঠিক করা থাকে ভগবানের নির্দেশ অনুযায়ী। তবে জীবন সঙ্গী যদি সঠিক মানুষ হয়, তাহলে আমাদের জীবন ভরে উঠবে সুখে স্বাচ্ছন্দে। কিন্তু কখনো যদি আমাদের জীবন সঙ্গী আমাদের মনের মত না হয়, তাহলে আমাদের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিসহ।

তাই প্রেম করে হোক অথবা দেখাশোনা করে বিয়ের আগে নিজের জীবনসঙ্গী অথবা সঙ্গিনীকে কিছু কথা অবশ্যই জিজ্ঞাসা করে নেওয়া উচিত।

১) তুমি কেন আমাকে ভালোবাসো:স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে সবথেকে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা একবার হলেও আপনি আপনার সঙ্গীকে এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে দেখুন আপনার সঙ্গী আপনার প্রশ্নের উত্তরে কি বলবেন। যদি আপনি প্রশ্ন করার সাথে সাথে তিনি বলে উঠেন, তোমাকে ভালোবাসি তাই ভালবাসি। এই কথা বলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝে নেবেন যে আপনাদের ভালোবাসা নির স্বার্থ এবং সে আপনাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভালোবাসে।

২) তুমি কেন বাকি জীবনটা আমার সঙ্গে কাটাতে চাও: এই প্রশ্নটিই খুব স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন। এ প্রশ্নের উত্তরে যদি আপনার সঙ্গে খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দিয়ে থাকেন। অর্থাৎ আপনার সঙ্গী যদি বলে থাকেন,”তোমাকে আমি ভালবাসি বলেই তোমার সাথে সারা জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই”। তাহলে আগে খেয়াল করুন যে আপনি এই কথাটিতে সন্তুষ্ট হচ্ছেন কিনা। যদি আপনি আপনার সঙ্গীর এই কথায় সন্তুষ্ট না হয়ে থাকেন তাহলে আবার একবার বিবেচনা করে নিন আপনার সঙ্গী সম্পর্কে।

৩) প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিয়ের পর তুমি কি করতে চাও: প্রশ্নটা হয়তো কিছুটা বোকা বোকা মনে হল। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী অথবা পরিস্থিতি অনুযায়ী এই প্রশ্নটি যথার্থতা আপনি বুঝতে পারবেন। এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে যদি আপনার সঙ্গী সঠিক উত্তর দিতে পারেন, তাহলে বুঝে নেবেন তিনি আপনার জন্য যথাযথ। এই প্রশ্নের উত্তরে যদি আপনার সঙ্গী আপনাকে বলেন,”ওসব পরে দেখা যাবে”।তাহলে বুঝে নেবে যে আপনার সম্পর্কে আপনার সঙ্গী একেবারেই সিরিয়াস নয়।

৪) তুমি কি আমার কষ্টগুলো ভাগ করে দিতে প্রস্তুত: জীবনের প্রত্যেকটি পরিস্থিতি সমান আসেনা। একসাথে থাকতে গেলে ভালো-মন্দ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়। তাই এখুনি পরখ করে নিন যে আপনার সঙ্গী আপনার খারাপ সময় গুলোতে আপনার সঙ্গে থাকতে রাজী কিনা।যদি আপনার সঙ্গী এখন থেকেই আপনার খারাপ সময়ে পাশে থাকে তাহলেই তাকে বেছে নিতে পারেন আপনি জীবনসঙ্গী হিসেবে।

৫) তুমি কি আমার জন্য জীবনে আপোষ করতে প্রস্তুত: জীবন সেক্রিফাইস এবং কম্প্রমাইজ এর অন্য নাম। যদি আপনার সঙ্গী আপনার সাথে মানিয়ে নিতে এখন থেকেই না চান, তাহলে তার সঙ্গে সারাজীবন কাটানোর আগে একবার হলেও ভেবে নেবেন।

৬) সন্তানের জন্য তুমি কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে: বিবাহের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো সন্তানের বাবা মা হওয়া। কিন্তু অনেক স্বামীকে দেখা যায় যে সন্তানের কোনো রকম দায়িত্ব নিতে চান না। সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব ছাড়া আর অন্য কোন দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত হয় না অনেকবারই পুরুষেরা। তেমন যদি কোন হাবভাব এখন থেকে আপনি আপনার সঙ্গীর মধ্যে দেখেন, তাহলে অবিলম্বে তাকে বিয়ের জন্য মানা করে দিতে পারেন।