মাথায় পরেছে টা’ক? নতুন ক’রে চু’ল গ’জা’তে দিদা-ঠাকুমার অব্যর্থ টো’ট’কা, কাজ করবে ম্যাজিকের ম’তো

বর্তমান পরিস্থিতিতে মেয়েদের বিশেষত একটি বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তা হলো অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া। পরিবেশ দূষণের কারণে হোক অথবা মহামারীর কারণে এই সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারছে না কেউ। চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা অথবা অকালে চুল পেকে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগতে থাকেন। এই সমস্যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানসিক দিক থেকে অশান্তি সৃষ্টি করে। কিন্তু ভালো করে ভেবে দেখবেন, আগে কিন্তু এই ভাবে চুলের সমস্যায় ভোগেন না আমাদের মা কাকিমারা। সেই সময় দূষণ না থাকার কারণে হয়তো এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় নি তাদের। তবে পাশাপাশি তারা কিছু ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করতেন যা আজও আমরা ব্যবহার করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

প্রথমেই বলব আমলা তেলের কথা। খাবার পর অনেকেই হজম করার জন্য শুকনো অথবা কাঁচা আমলকি খেয়ে থাকেন। কিন্তু এই আমরা আমাদের চুলের জন্য যে ভীষণভাবে উপকারী সেটা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা। আমলা তেল ব্যবহার করলে চুল পড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি আমরা। আমলা তেল ব্যবহার করার জন্য প্রথমে আমলকি থেকে বীজ বের করে এটি মিক্সিতে বেটে নিতে হবে। এরপর এই পেস্ট থেকে আমলার রস থেকে বের করে দিতে হবে। তারপর তাতে মিশিয়ে দিতে হবে নারকোল তেল অথবা আমন্ড অয়েল। এবার হালকা গরম করে তৈরি করে ফেলতে হবে বাড়িতে আমলা অয়েল।

জবা কুসুম তেল: জবা ফুলের মধ্যে অনেক গুণাগুণ আছে। জবা ফুলের কুশন দিয়ে তৈরি করার তেল যদি আপনি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন আপনি। এই তেল ব্যবহার করার জন্য প্রথমে লাল জবাফুল এবং কিছু কারি পাতা জড়ো করতে হবে। এরপর একটি পাত্রে নারকেল তেল ভালো করে গরম করে নিয়ে তার মধ্যে দিতে হবে কারি পাতা এবং জবা ফুলের বৃত্তাংশ। হালকা শুকিয়ে নিয়ে মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে ছেঁকে তৈরি করতে হবে জবাকুসুম তেল। প্রত্যেকদিন রাতে ঘুমাতে যাবার আগে মিনিট পাঁচেকের ম্যাসাজ করলেই পেয়ে যাবেন সুফল।

মেথি তেল: চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে অথবা চুলকে দীর্ঘদিন কাল রাখার জন্য আপনি ব্যবহার করতে পারেন মেথি তেল। এই মিশ্রণটি তৈরি করার জন্য এক চা-চামচ মেথি এবং 1 চা চামচ সরষে নিয়ে ভালো করে গুঁড়ো করতে হবে। এরপর নারকেল তেল যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। তারপর মিশ্রণটি মাথায় দিয়ে ব্যবহার করলেই পাবেন সুফল।

তুলসী পাতার তেল: তুলসী গাছের গুনাগুন আমরা জানি। এই গাছের পাতা থেকে তৈরি তেল চুলের যত্নে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। যুগ যুগ ধরে তুলসী পাতা চুলের সমস্যার সমাধান করে আসছে। এই তেল তৈরি করার জন্য কিছু পরিমাণ তুলসী পাতা, লবঙ্গ এবং নারকেল তেল নিয়ে একটু ফুটিয়ে দিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিতে হবে একটি জায়গায়। তবে মাথায় মাখার আগে অবশ্য একটু গরম করে নিতে হবে।

মেহেদি পাতা: অনেকেই মাথায় রং করার জন্য মেহেন্দি ব্যবহার করে থাকেন। মেহেদি পাতা চুলের রঙ বজায় করার পাশাপাশি চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। একটি লোহার পাত্রে অর্ধেক কাপ মেহেন্দি গুঁড়ো এবং সম পরিমান জল জল মিশিয়ে
একটি পেস্ট তৈরি করতে হবে এবং তাতে মিশিয়ে নিতে হবে নারকোল তেল। এই মিশ্রণটি মাথায় ভালোভাবে মেখে এক ঘন্টার মতো অপেক্ষা করতে হবে। সম্পূর্ণ মিশ্রণটি শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে আপনার চুলের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।