বজরঙ্গি ভাইজান, বাস্তবের মুন্নিকে খুঁজে পাওয়া গেলো, জানুন কি ঘটেছিলো গীতার জীবনে

সালমান খান অভিনীত “বজরঙ্গি ভাইজান” ছবিতে আমরা দেখেছিলাম কিভাবে পাকিস্তান থেকে আগত ১০ বছরের মুক বালিকা মুন্নিকে শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিরাপদ ভাবে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন ভাইজান। এই সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছিল একটি ছোট্ট শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্র শেষমেষ কিভাবে নিজেদের শত্রুতা ভুলে একাত্ম হয়ে উঠেছিল।

এমন ঘটনা কিন্তু গল্প হলেও সত্যি। কারণ বাস্তবে মুন্নির অস্তিত্ব আছে। সিনেমার পর্দায় মুন্নি হিসেবে যাকে আমরা দেখেছি বাস্তবের মাটিতে সেই হলো গীতা। গীতা মুক এবং বধির ছিল। আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে সে কোনো ভাবে করাচি স্টেশনে পৌঁছে গিয়েছিল। ভারতের এই মেয়েটি প্রতিবেশী পাকিস্তানের করাচি স্টেশনে সেদিন একা বসে ছিল।

তার জীবনে সেদিন “বজরঙ্গি ভাইজান” হিসেবে উপস্থিত হয়েছিল পাকিস্তানের বিশিষ্ট সামাজিক সংস্থা ইদহী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। ট্রাস্টের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন এবং সেই সংস্থাতেই তাকে সযত্নে এবং নিরাপদে রাখা হয়। এরপর তাকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্যেও শুরু হয় লড়াই যে লড়াইয়ে উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রই সমানভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।

২০১৫ সালে ভারতে ফিরে আসতে পেরেছিল গীতা। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। মহারাষ্ট্রের নাইগাঁর মেয়ে গীতা। সেই গ্রামের বাসিন্দা রাধা ওয়াঘমারে গীতার মা। মুন্নির মতোই মায়ের কাছে ফিরে আসতে পেরেছিল গীতা। সিনেমার সঙ্গে তাই গীতার জীবনের অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়।