রাজ-শুভশ্রীর সন্তান কোলে মনের কথা শোনালেন মাসি দেবশ্রী

দীর্ঘ অপেক্ষার পর রাজ এবং শুভশ্রীর ঘরে এসেছে ছোট যুবান। আপাতত তাকে নিয়ে মত্ত গোটা চক্রবর্তী পরিবার। সদ্য হারানো বাবার কষ্ট ভুলে গিয়ে রাজ চক্রবর্তী মেতেছেন তার ছেলের সঙ্গে। ছেলে হবার পরেই তার প্রথম ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দিয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। এরপরই আবার একটি ভিডিও পোস্ট করেন রাজ চক্রবর্তী, যা আপাতত সোশ্যাল-মিডিয়ায়-ভাইরাল। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ছোট্ট যুবান কে কোলে নিয়ে রাজ চক্রবর্তী খেলা করছেন। বাবার কোলে চুপটি করে শুয়ে রয়েছেন ছোট্ট যুবান। শিশুটি অবাক হয়ে শুনছে তার বাবার কথা। আবার বাড়িতে গিয়ে তাকে কিভাবে ডাকতে হবে, কি কি করতে হবে, দাদু দিদাকে হ্যালো বলতে হবে, এই সমস্ত শেখাচ্ছে কয়েকদিনের শিশুকে।

ছেলের সঙ্গে আবার একটি অ্যানিমেশন ভিডিও শেয়ার করেছেন রাজ চক্রবর্তী। সকলের সঙ্গে রাজ এবং শুভশ্রীকে আগামী ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানালেন শুভশ্রীর দিদি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি তার প্রিয় বন্ধুর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখলেন। তাতে তিনি লিখেছেন,”তুমি যখন এলে, তখন পুরো পৃথিবীর আকাশ জুড়ে কালো মেঘ, তারই মধ্যে তোমার মা আনন্দের খবরটা দিলো। সেদিন আনন্দে কেঁদে ছিলাম আমি।প্রায় ১৬ বছর পর আমাদের বাড়িতে একটা ছোট্ট মানুষ আসছে। এরপর সারা পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে গেল মহামারী। সব সময় ভয়ে থাকতাম তোমার কথা ভেবে। ঘূর্ণিঝড় এসে যখন সমস্ত গাছ বাড়ী উড়িয়ে নিয়ে গেল, তখন তোমার মায়ের সে কি মন খারাপ,নিজের বাচ্চাকে কি সেই পুরনো কলকাতা ফিরিয়ে দিতে পারবে, এই ভেবে।

View this post on Instagram

স্নেহের য়ুভান , তুমি যখন এলে সালটা ২০২০।পুরো পৃথিবী এক আকাশ জুড়ে যখন কালো মেঘ তোমার মা তুমি আসার মত আনন্দের খবর টা দিল ।আনন্দে কেঁদে ফেলেছিলাম সেদিন। আমার সেই ছোট্ট বোন সে আবার মা হতে চলেছে ।16 বছর পর বাড়িতে একটা ছোট্ট মানুষ আসছে । তারপর ই এল করোনা নামের এই বিষাক্ত রোগ ,আমরা ভয়ে কুকড়ে থাকতাম তোমার কথা ভেবে। আম্ফান নামের ঝড় এসে সমস্ত গাছবাড়ি যখন উড়িয়ে নিয়ে গেল তোমার মায়ের সে কি মন খারাপ ,নিজের বাচ্চাকে কি সেই পুরনো কলকাতা ফিরিয়ে দিতে পারবে ?চারদিকে শুধুই খারাপ খবর ।কত মানুষ তাদের প্রিয় মানুষদের হারিয়ে ফেলছে । মাতৃগর্ভে তুমি। রোজ একটা করে দিন গুনছি কখন তুমি আসবে , আমাদের পরিবারের সবচেয়ে দুঃখের ঘটনাটা ঘটে গেল 28th আগস্ট ।তোমার ঠাকুরদাদা , আমাদের মেসোমশাই বৈতরণী পার করলেন ,ছেড়ে গেলেন আমাদের ।তোমাকে না দেখে যাওয়ার কষ্ট ওনার মত আমরাও পেলাম । যেদিন প্রথম কম্পিউটার (USG) এর ভেতর থেকে তোমাকে দেখলাম ,কখন একটু ছুঁয়ে দেখবো শুধু সেই দিন গুনতে লাগলাম। 12th সেপ্টেম্বর এর আগের রাতে ঘুম এলো না শুধু তুমি আসবে বলে ,এক্সাইটমেন্ট ,টেনশন সব মিলিয়ে একটা mixed feelings. OT র সময় হসপিটালে বসে থাকা ,তোমার দাদুর হরে কৃষ্ণ মন্ত্র জপ ,ছেলে হবে না মেয়ে সেই মেয়ে তর্ক ,সব মিলিয়ে একটা অদ্ভুত উত্তেজনা ,তারপর সেই প্রতীক্ষাময় কল টা পেলাম ,তোমার বাবা খবর দিলেন ,ছেলে হয়েছে। ব্যাস; ঋষি দাদার একটা ছোট্ট ভাই হয়েছে ,আমি জানতাম তুমি ই আসবে । আমার বিশ্বাস আজকের পর থেকে সব ভালো হবে ।তুমি যে আমাদের নান্হা শিব । অপেক্ষা কখন তোমার একটা ছবি দেখব ,এলো সেই মুহূর্ত। ছবিতে দেখলাম ফর্শা , লম্বা নাক , আমার থেকেও লম্বা চুল , সব মিলিয়ে একটা যেন জ্যোতি বেরোচ্ছে ।সকাল-বিকেল অপেক্ষা করতাম কখন তোমার একটা ফটো বা ভিডিও আসবে ।সেটাকেই বারবার দেখতাম ।কি সুন্দর তুমি ইউভ ।আমাদের বেবি ,আমাদের সানশাইন। কাল যখন প্রথম তোমাকে কোলে নিয়ে মনে হলো এর চেয়ে সুন্দর মুহূর্ত আর কিছু হতে পারে না ।ঋষি দাদা কে যখন প্রথম কোলে নিয়েছিলাম ,এই রকম অনুভূতি হয়েছিল । সারাক্ষণ শুধু ঘুনু করলে হবে ? উঠে পড়ো । Twinkle Twinkle Little Star ⭐️ বলতে হবে তো আমার সাথে …… অনেক ভালোবাসা , মামমাম ♥️♥️♥️ #YuvaanChakrabarty #thebestmomentof2020 #lifeisbeautifulwithyou #omnamahshiva🕉 @rajchoco @subhashreeganguly_real

A post shared by Deboshree Ganguly (@ganguly.deboshree) on

রোজ একটি করে মৃত্যুর খবর শুনছি, আর ভয় পাচ্ছি, তোমাকে আমরা সুস্থ ভাবে এই পৃথিবীর আলো দেখাতে পারব কিনা। এর মাঝেই তোমার ঠাকুরদাদা, আমারে মেসোমশাই বৈতরণী পার করলেন। তোমাকে না দেখেই যাওয়ার কষ্ট ওনার মত আমরা পেলাম। যেদিন প্রথম কম্পিউটারের ভেতর তোমাকে দেখেছিলাম, তখন শুধু ভেবে ছিলাম কখন তোমাকে ছুঁয়ে দেখবো। যেদিন তুমি আসবে বলে ঠিক করলে, তার আগেরদিন উত্তেজনায় ঘুম আসেনি।

তোমার জন্মের দিন হসপিটালে বসে থাকা,তোমার দাদুর সঙ্গে ছেলে হবে না মেয়ে হবে সেই নিয়ে তর্ক করা, সব মিলিয়ে একটি অদ্ভুত উত্তেজনা, তারপর বহু প্রতীক্ষার ফল স্বরূপ পেলাম তোমার খবর। তোমার বাবা খবর দিলেন ছেলে হয়েছে”।মাসি দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় এর পাশাপাশি খুশি দাদা ঋষি ও। ছোট বন্ধুকে ছোট্ট শিবের সঙ্গে তুলনা করে দেবর্ষি লিখেছেন,”আমার বিশ্বাস সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। ঋষি তাদের একটা ছোট্ট ভাই হয়েছে। আমি জানতাম তুমি আসবে। আমার বিশ্বাস আজকের পর থেকে সবকিছু ভালো হবে। তুমি যে আমার ছোট্ট শিব”।