ভোটের আগেই সিঙ্গুরের বিতর্কিত জমিকে চাষের যোগ্য করে তোলার চেষ্টা

বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তের সর্বস্তরের মানুষের মন পাওয়ার মরিয়া প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল সরকার। ভোট প্রচারে স্ট্র্যাটেজি হিসেবে রাজ্য সরকারের নজর এখন সিঙ্গুর। বাম আমলে সিঙ্গুরের কৃষকদের থেকে অধিগৃহীত প্রায় হাজার একর জমির সত্ব ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুনরায় কৃষকদেরকেই ফিরিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল সরকার। তবে এতদিন সেই জমি ছিল চাষের অযোগ্য। চার ফসলি জমি এখন কার্যত উলুখাগড়ার বনে ঢাকা!

সেই চাষের অযোগ্য জমিকে এবার “চাষ যোগ্য” করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের নির্দেশে মঙ্গলবার হুগলি জেলা সেচ দফতরের আধিকারিকেরা সিঙ্গুরের সেই জমি পরিদর্শন ও জরিপের কাজ সেরে ফেললেন। সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সিঙ্গুরের পাঁচটি মৌজার অন্তত ২৫০ একর জমিতে জল জমে রয়েছে। সেই জল সরিয়ে জমি পুনরায় চাষ যোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, জল জমে থাকার দরুন ওই জমি চাষের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। সেই জমির নিকাশি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জমে থাকা জল নিকাশির মাধ্যমে জমি লাগোয়া জুলকিয়া খালে ফেলার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। জল সরে গেলেই চাষীদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছেন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। উল্লেখ্য, চাষের জমিতে জল জমে থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন চাষীরা।

চাষীদের অভিযোগ ছিল, গোপালনগরের ৪০০ একর জমির মধ্যে ১৫০ একর নীচু জমির নিকাশি ব্যবস্থা ভাল নয়। অপরপক্ষে খাসেরভেড়িতে মোট ৫০ একর জমি, বেড়াবেড়ি এবং বাজেমিলিয়া এলাকারও অন্তত ২৫ একর জমি এবং সিংহেরভেড়ি এলাকায় ২০ একর জমিতেও জল জমে থাকে বলে জানিয়েছেন তারা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবার তাদের সমস্যা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।