মহারাষ্ট্রের থানেতে ভোররাতে বহুতল ভেঙে মৃত অন্তত ১০, আটকে অনেক

ভোররাতে আচমকা বহুতল ভেঙে মৃত্যু হল ১০ জন আবাসিকের। ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের থানেতে। সূত্রের খবর, সোমবার ভোর ঠিক পৌনে চারটে নাগাদ মুম্বাই এর কাছে ভিওয়ান্ডি এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ি ভেঙে পড়ে। ভেঙেপড়া আবাসনের ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বহুতলের ১০ জন আবাসিকের। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ ধ্বংসস্তূপের আড়ালে নিখোঁজ আরো ২০ জন বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ এবং দমকল বাহিনী। উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। জোর কদমে উদ্ধারকার্য চালানো হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভিওয়ান্ডি ধামানকার-নাকা এলাকায় অবস্থিত গিলানি নামক ওই আবাসনটি দীর্ঘদিন ধরেই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। আবাসনটির বিপদজনক অবস্থা লক্ষ্য করে ইতিপূর্বে ভিওয়ান্ডি কর্পোরেশনের তরফ থেকে আবাসিকদের বাড়িটিছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দুবার নোটিশও পাঠানো হয়েছিল।

কিন্তু ওই আবাসন ছাড়তে চাননি বাসিন্দারা। অবশেষে পৌরসভার আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো। বড়োসড়ো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হলেন বাসিন্দারা। পুলিশ সূত্রে খবর, জরাজীর্ণ ওই আবাসনটিতে একসঙ্গে ১৫টি পরিবার বাস করতেন। বহুতলটি ভেঙে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অবশ্য কুড়ি জন আবাসিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের খোঁজে উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।

ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এখনো নিখোঁজ বহু আবাসিক। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়িটি প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। এরইমধ্যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে আবাসনটি। আবাসিকদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েও লাভ হয়নি। এই ঘটনায় সকালেই শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।