কোটি টাকার ওপর দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার

মালদা, ১১ জানুয়ারি : মালদা সমবায়িকা’য় বেচাকেনায় কোটি টাকার ওপর দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন অফিস স্টেশনারি ইনচার্জ কল্যাণব্রত ঘোষ । কৌশলগত ভাবে অনলাইন থেকে নিজের একাউন্টে সমবায়িকা বেচাকেনা সরকারি লাভের অতিরিক্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরেই নিয়ে আসছিলেন ওই অফিস স্টেশনারি ইনচার্জ বলে অভিযোগ। বিগত দিনে মালদা সমবায়িকা বোর্ড বামফ্রন্টের দখলে ছিল। সম্প্রতি সেই বোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্য প্রশাসন। এরপর প্রশাসক হিসাবে সমবায়িকায় নিয়োগ করা হয় ইংরেজবাজার পৌরসভার তৃণমূল দলের কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়িকে। তার তত্ত্বাবধানেই আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদারকি শুরু হয়। এরপর একের পর এক দুর্নীতির বিষয়গুলি উঠে আসতে থাকে। অবশেষে শুক্রবার রাতে সমবায়িকার অফিস স্টেশনারি ইনচার্জকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন প্রশাসক অম্লান ভাদুড়ি এবং কো-অপারেটিভ সোসাইটি এসিস্ট্যান্ট রেজিস্টার অভিষেক ব্যানার্জি ।

প্রাথমিক জেরাতেই প্রায় কোটি টাকার দুর্নীতির দায় স্বীকার করেন সমবায়িকার ওই অফিসার ইনচার্জ কল্যাণব্রত ঘোষ । এরপর অভিযোগের ভিত্তিতে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে।শনিবার দুপুরে পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন বর্তমান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর অম্লান ভাদুড়ী। তিনি বলেন, গত তিন বছরে সমবায়িকার ওই অফিস স্টেশনারি ইনচার্জ কল্যাণ ব্রত ঘোষ প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার সরকারি অর্থ তছরুপ করেছে। কিভাবে তিনি দিনের পর দিন নিজের একাউন্টে সরকারি অর্থ নিয়েছেন তা নিয়েও হতবাক হয়ে গিয়েছি সকলেই। ২০১৮-১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকার তছরুপ করে নিজের একাউন্টে লেনদেন করেছেন অভিযুক্ত ওই অফিসার ।

পুরো ঘটনাটি সামনে আসতেই ওই অফিসার ইনচার্জ কল্যানব্রত ঘোষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইংরেজবাজার থানায় অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অভিষেক ব্যানার্জি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সমবায়িকা ওই অফিসার ইনচার্জকে গ্রেপ্তার করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। এই ঘটনার পিছনে বিগত দিনে বাম বোর্ডের একাংশ জড়িত থাকার সন্দেহে প্রকাশ করেছেন প্রশাসক অম্লানবাবু।এদিন কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অভিষেক ব্যানার্জি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে মালদার সমবায়িকায় চাকরি করে আসছেন অফিস স্টেশনারি ইনচার্জ কল্যাণ ব্রত ঘোষ। ২০১৭ সালে অনলাইন পদ্ধতিতে সরকারের লেনদেনের একাউন্ট তৈরীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কারচুপি করেছিলেন ওই স্টেশনারি ইনচার্জ। গত দেড় বছরের মধ্যে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা সরকারি অর্থ তছরুপ করেছেন ওই অফিসার।

সমস্তরকম এক্সক্লুসিভ খবর পেতে লাইক করুন