পেঁয়াজের পর আলুর দাম আকাশছোঁয়া, মধ্যবিত্তের মাথায় হাত!

শীতের এই অসময়ে বৃষ্টিতে আলুর যোগান দিতে হিমসিম খাচ্ছেন সব্জি বিক্রেতারা। পৌষমাসে এমনকি বৃষ্টিতে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ছে চাষবাস। জমিতে জল জমে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ক্ষতি। বেশ কিছুদিন ‌থেকেই পিঁয়াজের দাম ছিল লাগামছাড়া। শীত‌ পড়তেই দাম ‌বেড়ে গেল সব শাক-সবজির। শীতে‌ বৃষ্টির ফলে আলুর যোগান কমে গেছে। বৃষ্টির জেরে আলুর শীতকালীন সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জমিতে জল জমে চাষের ক্ষেত্রে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন লাগানো চারা গাছের গোড়া নরম, বৃষ্টির জলে আলগা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জানা গিয়েছে বিশেষত পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি জেলায় আলু চাষে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলার কৃষি কৃষি বিভাগের আধিকারিক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, “এই আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তনে চাষের প্রবল ক্ষতি হয়েছে। অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে কৃষকদের।”

একই দৃশ্য দেখতে মিলছে বীরভূম জেলাতেও। অনেকেই লোন নিয়ে আলু চাষ করেন, কেউ কেউ আবার জমি অথবা গয়না বন্ধক রেখে মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে চাষাবাদ করেছন ৷ কিছু টাকা লাভের আশায়।
এমতবস্থায় লাভ তো অনেক দূরে অকাল চাষের খরচটুকু উঠবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহে আছে। বৃষ্টিতে এমন ক্ষতি হওয়ায় চাষিদের মাথায় বাজ পড়েছে।

শুধুমাত্র আলুচাষীরাই সংকটে নয়। বৃষ্টির জেরে অনান্য শীতকালীন ফসল ও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গাজর, টমেটো, ফুলকপি বাঁধাকপিসহ অনেক শীতকালীন সবজি নষ্ট হয়ে ‌যাচ্ছে।‌ বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। কয়েকদিন আগে অবধি পেঁয়াজ ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতাদের সংকটে পড়তে হয়েছিল। তবে পেঁয়াজের দাম এখন কিছুটা আয়ত্তে এসেছে। এখন পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। রান্নাঘরে আলুর চাহিদা সব থেকে বেশি। তাই আলুর দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত এবং দরিদ্ররা চিন্তায় পড়ে গেছে।

শীতকালীন সবজি পালংশাক, ফুলকপি, বেগুন, গাজর, বিনস, মটরশুঁটি, বাঁধাকপি পেঁয়াজকলি, এবং আরো অন্যান্য সবজি ৪০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বাধিক ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে। কয়েকদিন আগে অবধি জ্যোতি কিংবা চন্দ্রমুখী আলুর দাম পঁচিশ থেকে সাতাশের মধ্যে ছিল ৷ এখন দাম বেড়ে ৩২ থেকে ৩৬ টাকা কেজি। এমতাবস্থায় সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের এতো শীতেও কালঘাম ছুটছে।

সমস্তরকম এক্সক্লুসিভ খবর পেতে লাইক করুন