ডিম কি উপায়ে রাঁধলে মিলবে সমস্ত পুষ্টিগুণ! জানা আছে কি?

ডিম কি উপায়ে রাঁধলে মিলবে সমস্ত পুষ্টিগুণ

আমিষ রান্নাঘর ডিম খুব কমন খাদ্যসামগ্রী। সকালের ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু ডিনার, নানা রেসিপি রয়েছে ডিমের। বাঙালিদের ডিম খুব ফেভারিট একটি খাদ্য। বাড়ির ছোট্ট সদস্যের টিফিন বক্সেও ডিম থাকে। তবে ঠিক কী উপায়ে ডিম খেলে তার সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় তা জেনেবুঝে ডিম খেলে শরীরের যেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয় না, তেমনই শিশুর এবং সকলের ক্ষেত্রে পুষ্টিলাভ সম্পর্কেও অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়।

বিশেষজ্ঞ ডায়েটেশিয়ানরা মনে করেন, ‘‘সহজলভ্য এবং কমদামে প্রোটিনের এক বিশাল ভাণ্ডার হল ডিম। ডিমের কুসুম এমনিই সুস্বাদু আহার। এখন গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে, কোলেস্টেরলের সমস্যায়ও ডিমের কুসুম খাওয়া সম্ভব। ডিমের কারী, অমলেট, স্ক্রাম্বেলড এগ এ সব খাবারের স্বাদ খুব বেশি হলেও এতে ডিমের পুষ্টিগুণ কমে যায়। কিন্তু অয়েলি বা স্পাইসি ভাবে রান্না করা ডিম থেকে ততটা পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় না, যতটা শুধু সেদ্ধ করা ডিমে পাওয়া যায়।’’ জেনে নিন ঠিক কোন কোন পদ্ধতিতে ডিম রান্না করলে তার থেকে পূর্ণ পুষ্টিগুণ মিলতে পারে। এই সব উপায়ে রান্না করুন ডিম, মিলবে সবটুকু পুষ্টিগুণ! ডিমের সবটুকু পুষ্টিগুণ পেতে নজর রাখুন রান্নার পদ্ধতিতে।

তেল ছাড়া পোচ- তেল ছাড়া যদি পোচ তৈরি করতে পারেন, তবে স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দুই-ই রক্ষা পায়। তবে বিনা তেলে পোচ তৈরি করা একটু শক্ত বিষয়। সর্বপ্রথম ডিমটা ফাটিয়ে নিন একটি পাত্রে। এমন ভাবে ডিমটা ভাঙতে হবে যেন কুসুমটি আলাদা থাকে, ছড়িয়ে না যায়। এর মধ্যে স্বাদ অনুসারে গোলমরিচ ও লবন দিন। এ বার একটি ফ্রাইং প্যানে ভিনিগার দিয়ে একটু জল ফুটিয়ে তার মধ্যে সাবধানে ভাঙা ডিমটি ছেড়ে দিন। পোচ তৈরি হয়ে গেলে ঝাঁঝরা দিয়ে জল ঝরিয়ে সাবধানে তুলে নিন। এমনভাবে রান্না করা পোচে তেল যুক্ত হয় না যাই ডিমের সবটুকু পুষ্টিগুণ অক্ষত থাকে।

হাফ বয়েল- ডিমের বাইরের সাদা অংশ পুরো সেদ্ধ থাকলেও ভেতরের হলুদ কুসুম অর্ধেক সেদ্ধ, এমনভাবে খেলেই তার বেশি পুষ্টিকর বলে দাবি করেন ডাক্তারেরা। ডিমের ভেতর থাকা ক্ষতিকর জীবানু নাশ করে দেয় আগুনের আঁচ। সাথে কুসুমের ভেতর থাকা সবটা পিুষ্টিগুণকেই অক্ষত রাখে। ফুটন্ত লবন জলে পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করে নিলেই খুব সহজেই‌ তৈরি হয়ে যাবে হাফ বয়েল ডিম।

ফুল বয়েল- একটি সম্পূর্ণ সেদ্ধ ডিম থেকে প্রায় ১২.৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। ফুল বয়েলড ডিম যেমন এমনিও খাওয়া যায় আবার স্যালাড অথবা স্যান্ডউইচ, সব কিছুর সাথেও খাওয়া যায়। ডিমের সব ধরনের রেসিপির মধ্যে এটি সব থেকে বেশি পুষ্টিকর। লবনজলে দশ মিনিট ফুটিয়ে নিলেই তৈরি সেদ্ধ ডিম।