‘পাকরাষ্ট্রের সব গুরুদ্বার ভেঙে মসজিদে পরিণত করা হবে’, স্লোগান পাকরাষ্ট্রে

পাকরাষ্ট্রের সব গুরুদ্বার ভেঙে মসজিদে পরিণত করা হবে
ছবিঃ সংগৃহীত

পাকিস্তানে অবস্থিত নানকানা সাহিব গুরুদ্বারে কয়েকশো মানুষ হামলা চালিয়ে ঘোষণা করলেন, গুরুদ্বার ভেঙে মসজিদে পরিণত করা হবে৷ এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ আপামর ভারতীয়রা। পাকিস্তানের এই ঘটনা নিয়ে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ বরং তিনি ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিজেপির সমালোচনা করতেই ব্যস্ত৷ প্রসঙ্গত,শিখ ধর্মগুরু নানকের জন্মস্থান পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে অবস্থিতি নানকানা সাহিব সমগ্র শিখ জাতির কাছে খুবই শ্রদ্ধার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত।

অকালিদলের বিধায়ক মনজিন্দর সিং সিরসা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ”নানকানা সাহিবে হামলার পরে পাকিস্তানি-রা খোলাখুলি ঘোষণা করেছে, পাকিস্তানের সব গুরুদ্বার মসজিদে পরিণত করা হবে৷ ইমরান খান-ও মৌন থেকে পরোক্ষভাবে তার সম্মতি-ই জানিয়েছে। সমগ্র শিখ সম্প্রদায় এই-জাতীয় ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেবে না ৷ তাদের এই বর্বরতাই প্রমাণ করছে, পাকিস্তান আসলে একটি মুসলিম দেশ এবং তাদের কাছে সংখ্যালঘুদের কোনও দাম নেই৷ পাকিস্তান অবিলম্বে এই সব বন্ধ করুক, নাহলে আমরা ভালো করেই বদলা নিতে জানি।”

কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি ট্যুইটারে ভৎসনা করে লিখেছেন, ‘নানকানা সাহিবে হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়৷ ধর্মান্ধতা বিপজ্জনক৷ ধর্মান্ধতা প্রাচীন বিষ, যার কনও সীমান্ত নেই একমাত্র ভালোবাসা, পার‌স্পরিক শ্রদ্ধা এবং সচেতনতাই পারে এই বিভৎসতাকে ধ্বংস করতে ৷’

নানকানা সাহেবের গুরুদ্বারে শতাধিক বিক্ষুব্ধ মুসলিম পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ। জনতার নেতৃত্বে মোহাম্মদ হাসানের পরিবার ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ মুসলমানরা পবিত্র গুরুদ্বার ঘেরাও করে বহু ভক্তকে ভিতরে আটকে রাখে। আন্দোলনকারীরা গুরুদ্বারটি ভেঙে সেই জায়গায় মসজিদ তৈরির হুমকিও দেয়। প্রসঙ্গত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে, নানকানা সাহিবের ঘটনা এর মধ্যে প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্কে আরো তিক্ততা যোগ করল।