কাঁচের জার ভর্তি সাপের বিষ সহ তিনজন গ্রেফতার

মালদা,৪ জানুয়ারি : কাঁচের জার ভর্তি সাপের বিষসহ তিনজনকে গ্রেফতার করল মালদা প্রাইম মনিটরিং গ্রুপের অফিসারেরা। শুক্রবার গভীর রাতে মালদা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় একটি বেসরকারি হোটেল থেকে সাপের বিষসহ গ্রেপ্তার করা হয় তিন জনকে। ধৃতদের বাড়ি কালিয়াচক থানা এলাকায়। শনিবারে তাদের আদালতে তুলে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সাপের বিষের বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা।ধৃতদের কাছ থেকে এক কিলো ওজনের জারবন্দি ওই সাপের বিষ উদ্ধার হয়। তবে এতদিন জারবন্দি তরল অবস্থায় সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু এই প্রথম উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ রীতিমতো প্রক্রিয়াকরণ করে ফেলেছে পাচারকারীরা । এতেই হতবাক হয়ে গিয়েছে জেলা পুলিশ।ধৃত পাচারকারীদের বাড়ি কালিয়াচক থানা এলাকায়। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আদালতের আবেদন জানিয়েছে মালদা পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  ধৃত পাচারকারীদের নাম রফিক আলি (৪৯),  আসিফ মন্ডল (২৬) এবং মাসুদ শেখ (২০)।  ধৃত রফিক এবং মাসুদের বাড়ি কালিয়াচক থানার শাহবাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামনটোলা গ্রামে। আসিফ মন্ডলের বাড়ি কালিয়াচক থানার আকন্দবাড়িয়া গ্রামে।

ধৃতদের শুক্রবার রাতে মালদা শহরের ঝলঝলিয়া এলাকার একটি হোটেল থেকে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্রেফতার করে মালদা জেলা পুলিশের মনিটরিং সেলের অফিসারেরা।শনিবার দুপুরে পুরো বিষয়টি নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। তিনি বলেন, জারবন্দি সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছে ।  সাপের বিষ সহ কাঁচের জার নিয়ে ওজন প্রায় এক কিলোর মতো। উদ্ধার হওয়া এই বিষের বর্তমান বাজার মূল্য এক কোটি টাকা। তবে ধৃতেরা কোথা থেকে এগুলো সংগ্রহ করেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত আইন এবং চোরাকারবারির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।তিনি আরো বলেন, এর আগেও কাঁচের জারবন্দি সাপের বিষ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু সেটি তরলজাতীয় পাওয়া গিয়েছে। এই প্রথম সাপের বিষ পুরোপুরি প্রক্রিয়াকরণ করে চিনির দানার মতো তৈরি করে ফেলেছে পাচারকারীরা। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে কোন ল্যাবরেটরি থেকেই এই কাজ করা হয়েছে।

কালিয়াচকের কোথাও এই ধরনের ল্যাব রয়েছে কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে মাদক জাতীয় দ্রব্য তৈরির ক্ষেত্রে সাপের বিষ সংগ্রহ করা হয়েছিল। যা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বাইরে কোথাও পাচার করা হতো। তবে কোথায় এগুলি পাচার করা হতো এই মুহূর্তে সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।পুলিশ সুপার জানিয়েছেন,  ক্রাইম মনিটরিং সেলের এক মহিলাসহ ছয় জন অফিসার কর্মী খদ্দের সেজে ওই হোটেলে অভিযান চালায় । আর তাতেই হাতেনাতে সাপের বিষ পাচার চক্রের এই তিনজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে এরা এই পাচার চক্রের পান্ডা না পাচারকারী তাও প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কি ধরনের সাপের বিষ সংগ্রহ করেছিল তা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলা যাবে।শনিবার ধৃতদের জেলা আদালতে তোলা হয়।

সমস্তরকম এক্সক্লুসিভ খবর পেতে লাইক করুন