স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে বড়সড় উদ্যোগ, উপকৃত হবে গরিব-মধ্যবিত্ত পড়ুয়ারা

মমতা ব্যানার্জি ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে ক্লাস ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে নতুন বই বিতরণের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ২ জানুয়ারি অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে নতুন‌ শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়েছে। এই দিনটিকে ‘‌বই দিবস’‌ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বীকৃতি দিয়ে এবছরও সেই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। বছরের শুরুতেই রাজ্যের সকল সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের হাতে নতুন বই প্রদান করা হল। ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হয়েছে সিলেবাস। এবং তাদের জন্য ছাপানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা ।

বামফ্রন্টের আমলে শিক্ষাবর্ষে সরকারি উদ্যোগের সব না হলেও কিছু বই বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের দেওয়ার হতো। তবে ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মমতা ব্যানার্জির প্রচেষ্টায় অনেক উন্নতি হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই উদ্যোগ আরও বেশি জোড়ালো করেন।

ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রায় সমস্ত বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। বইয়ের পাশাপাশি লেখার খাতাও দেওয়া হল। নবম ও দশম শ্রেণীতে চারটি বই ও সঙ্গে খাতা দেওয়া হচ্ছে। এবং একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণীতে কেবলমাত্র খাতা ই দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রার্থীদের জন্য টেস্ট পেপারও দেওয়া হচ্ছে ফ্রি তে।

ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পড়াশোনার উৎসাহ বাড়াতে বিগত কয়েক বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর ছাপানো শুভেচ্ছা বার্তা ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের বিশেষত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পোষাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজ্য সরকার পক্ষ থেকে।

এছাড়াও কন্যাশ্রী প্রকল্প সবুজ সাথীর সাইকেল ইত্যাদি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এইরকম পদক্ষেপে বিশেষত গ্রামগঞ্জের দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা বিশেষভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত হচ্ছে। দীপঙ্কর মল্লিক জানান,‘আমাদের বিদ্যালয়ের প্রায় নব্বই শতাংশ ছাত্রছাত্রীই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী পরিবারের মধ্যে পড়ে।

তাদের মতো অসহায় পরিবারের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। ’‌বনগাঁর‌ অসিত বিশ্বাস নামের শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক এমনটাই জানিয়েছেন।