৬০ টি কম্বল বিতরণ করা হলো

আলিপুরদুয়ার:- নভেম্বর মাস পেরোতেই উওরবঙ্গে শীত বেশ জাঁকিয়ে বসে। শীতল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র বাংলা। শীতের সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অপামর বাঙালি মজে থাকে মিঠে রোদের উত্তাপে। ঘরে বাইরের আড্ডার সাথে জোরদার তর্ক চলে কোথায় বনভোজন হবে। চিকেন না মটন, পার্শে না পাবদা কী হবে মেনু এই নিয়ে সরগরম হুজুগে বাঙালী সমাজ। লেদারের জ্যাকেট ও রংবাহারী টুপি মাফলার মুড়ে উষ্ণতার মোড়কে শীতের আমেজ নেয় মানুষ।

উত্তরবঙ্গ মানেই বৃহৎ চা বলয় বাঙালির সকাল সন্ধ্যা চায়ের কাপে তুফান ওঠে। কিন্তু সেই চা শিল্পের কারিগর অর্থাৎ শ্রমিক মজুররা শীতে গরম উষ্ণতা পায় না। ধুঁকতে ধুঁকতে চলা চা বাগান গুলি নিদারুণ খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য সামান্য মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হয় শ্রমিকরা। দু’বেলা শীতের উষ্ণ পোশাক কিংবা কম্বল অলীক স্বপ্নই মাত্র। ফলত প্রবল ঠান্ডার সাথে লড়াই করতে করতে কষ্ট পায় এবং রোগ ব্যাধি বাঁধিয়ে বসে। এইরকম পরিস্থিতিতে আলিপুরদুয়ারের আনন্দ-আয়োজন নামে একটি সংস্থা এবং বীরপাড়ার সমাজসেবী সাজু তালুকদারের হেভেন অফ শেল্টার হোমের যৌথ উদ্যোগে বর্ষশেষের দিন বীরপাড়ার শুরগাও বস্তি ও শিশুঝোড়া বস্তিতে ৬০ টি কম্বল বিতরণ করা হয়।

সংস্থার পক্ষ থেকে সন্দীপন সরকার বলেন, ওদের জন্য কিছু করতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে আগামী দিনেও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে আমাদের এই কম্বল বিতরণ চলতে থাকবে। এইদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল কম্বল বিতরণ ঘিরে কার্যত উৎসবের চেহারা নিয়েছে। কম্বল পাওয়া মানুষগুলোর মুখে খুশিতে হাজার ওয়াটের আলোর ঝিলিক দিয়ে যাচ্ছে। হয়তো সেই রাত থেকে তারা শীতের প্রকোপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে উষ্ণতায় মুড়ে পরম তৃপ্তিতে ঘুমোতে পারবে।