হাড়ের রোগ সারানোর সহজ উপায়, পাতে রাখুন এইসব খাবার

হাড়ের রোগ সারানোর সহজ উপায়, পাতে রাখুন এইসব খাবার

আজকালকার দিনে যুবক থেকে বয়স্ক একটাই যেন সমস্যা হাড়ের। আজ নাহলে কাল এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সবাইকে তবে কেউ যদি হাড় বিহীন হয় তাহলে হয়ত আলাদা ব্যাপার। চলার সঙ্গী দু’পায়ে একটু বেশি হাঁটলে ও একটু বেশি কাজ এছাড়াও অনান্য শ্রমের ফলে শরীরের হাড়ে ব্যথায় অসুস্থ।

প্রতি গাঁটে গাঁটে ব্যথার মতো নিরীহ রোগ কিংবা অস্টিওপোরোসিসের মতো জটিল অসুখের হানা প্রায় ঘরে ঘরে। অর্থপেডিকদের মতে, সময় থাকতে হাড়ের কথা ভাবলে বয়সকালে সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভবত । শরীরে ক্যালসিয়ামের কম হলেই হাড়ের সমস্যা।

শরীরে যে সব খনিজ পদার্থের প্রয়োজন তার মধ্যে অতি জরুরী ক্যালসিয়াম। হাড়ের কাঠামোর দৃঢ়তা রাখার মূল উপাদান ক্যালসিয়াম। পাশাপাশি পেশি গুলোকে সচল রাখা, নার্ভাস সিস্টেমকে কার্যত রাখতেও ক্যালসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম।

শরীরে ক্যালসিয়াম ছাড়াও ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-র মতো ফ্যাট সলিউবল ভিটামিনগুলোর আত্তীকরণ সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিন আমাদের খাদ্যে ক্যালসিয়াম থাকা খুব দরকার। পূর্ণবয়স্কদের শরীরে প্রতিদিন. ১০০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের খুব প্রয়োজন আছে।

একটু ব্যথা হলেও যেন ওষুধের দোকান থেকে কিনে নিয়ে আনা ওষুধই আমাদের সমস্যা। তবে হাড়ের সমস্যার আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ক্যালসিয়ামের জন্য ওষুধ খাওয়াকে খুব একটা সমর্থন করে না। ডাক্তারদের পরামর্শে ওষুধের মাধ্যমে দেওয়া ক্যালশিয়াম বেশি পরিমাণে খেলে তা শরীরে সমান ভাবে ছড়িয়ে পড়তে না পেরে শেষে কিডনিতে জমা হয়। তা পরবর্তী সময়ে পাথর হতে পারে। হাড়ের সমস্যা রুখতে ছোট বয়স থেকেই পাতে থাকুক ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্য।

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাদ্যের তালিকায় কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্যের নাম-

দুধ: ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস এই পানীয় খাবার। এক কাপ মাঠাযুক্ত দুধে প্রায় ২৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন” D” ও পাওয়া যায়। সোয়াবিন থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, তার এক কাপ দুধে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম। যাঁদের দুধ হজম করতে সমস্যা হয় তাঁরা সোয়া মিল্ক,নারকেলের দুধ খেতে পারেন। ছোট বেলা থেকে দুধ সঙ্গী হলেও সময়ের সাথে দুধ যেন আর পান করা হয়ে উঠেনা।

চিজ: চিজে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম। এ ছাড়াও মিলবে ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো মিনারেল। প্রতিদিনের চিজ বা ছানা খেতে হবে। তবে চিজ ওজন বাড়িয়ে তোলে। তাই পরিমাণে কম খাওয়াই ভালো

দই: দুধ থেকেই পাই দই।দুধ হজম করতে কিছুজনের সমস্যা হয়। আর যাঁরা এই সমস্যায় ভোগেন তাঁদের জন্যে দই খুব দরকারী। এক কাপ ফুল ফ্যাট দই থেকে প্রায় ২৮০-২৯০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে টক দইয়ের মধ্যে যে ল্যাক্টোব্যসিলাস থাকে তা হজমেও সাহায্য করে।

সবুজ পাতার শাকসব্জি: বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি, পালং, নটে, সর্ষে শাক ইত্যাদিও ক্যালসিয়ামের খুব ভাল উৎস। প্রতি দিনকার খাদ্যতালিকায় থাকুক এই সব শাকসব্জি।

শুকনো ফল: শুকনো অ্যাপ্রিকট, বাদাম, খেজুরে ক্যালসিয়াম রয়েছে প্রচুর। তবে বেশি পরিমাণে শুকনো ফল খেলে বাড়তে পারে ওজন। তাই রাশ টানুন পরিমাণে।

ডাল: নানা ধরনের ডাল, যেমন রাজমা, সোয়াবিনের দানা, ছোলা ও বিভিন্ন ধরনের ডাল ক্যালসিয়ামের খুব ভাল উৎস। এক কাপ রান্না করা মুগ ডাল থেকে প্রায় ২৭০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।

ডিম,মাছ, মাংস ও সামুদ্রিক মাছ: এসব খাবার সবারই খুব প্রিয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম, মাছ মাংস কিছু না কিছু থাকেই কিন্তু সামুদ্রিক মাছও খুব দরকার। এগুলিও শরীরে ক্যালসিয়ামের জোগান বাড়ায়।
সাবধানতা

প্রত্যেকের শরীরের অবস্থা ও প্রয়োজন আলাদা। ক্যালসিয়াম যেমন হাড়ের পুষ্টির জন্য প্রয়োজন। আবার হতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা কিডনি স্টোনের মতো সমস্যা এর ফলেই । আবার অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরে আয়রন এবং জিঙ্ক সংশ্লেষেও বাধা সৃষ্টি করে।

তাই খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম রাখার আগে নিজের শরীর অনুপাতে ঠিক কতটা পরিমাণে এটি প্রয়োজন। সব কিছু ঠিকঠাক করতে অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকদের সু-পরামর্শ নিয়েই ওষুধ ও হাড়ের চিকিৎসা ও শরীরের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।