নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে BSF

63

পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে পদভ্রষ্ট হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়েছিল প্রণব মন্ডলের নৌকা। এরপরেই বিজিবি প্রণব মন্ডল সহ বিকাশ মন্ডল এবং অচিন্ত্য মন্ডলকে আটক করে। এরপর বিকাশ এবংগ অচিন্ত্যকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয় এবং বিএসএফকে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের জন্য ডাকা হয়।

তারপর বিকাশ মন্ডলকে নিয়ে মিটিংয়ে যায় বিএসএফ। কিন্তু তারপরেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিএসএফ জানায়, তাঁদের ৫ জন জওয়ান ফ্ল্যাগ মিটিংয়ে যাওয়ার সময় গুলিবর্ষণ করে বিজিবি। ঘটনাস্থলে নিহত হন বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং এবং আহত হন আর এক বিএসএফ জওয়ান।

বিকাশ মন্ডক বলেন, বিজিবি সেনা যখন বলে যে প্রনবকে ছাড়বেনা তাঁরা, তখন নৌকায় ফিরে আসেন। কিছুক্ষন পরেই গুলিবর্ষণ শুরু হয়। নিজেকে বাঁচাতে নৌকায় মাথা নিচু করে ছিলেন বিকাশ। তারপর দেখেন এক বিএসএফ জওয়ানের দেহ রক্তে ভেসে যাচ্ছে, আর একজন আহত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদীর মাঝেই ছিলেন তাঁরা।

কিন্তু বিজিবি সেনারা তবুও ধরে নিয়ে যায় বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করেছিলেন বলে। শুধু তাই নয়, তাঁদের মাছ ধরার জাল এবং যে ইলিশ মাছ ধরেছিলেন সেগুলোও নিয়ে নেয় বিজিবি সেনা। তিনি জানান, পদ্মা নদীতে প্রায় ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে মাছ ধরছেন, কিন্তু এরকম ঘটনার সন্মুখীন হননি তিনি।

অচিন্ত্য মন্ডল বলেন, এখন তাঁদের নদীতে মাছ ধরতে ভয় লাগছে। নদীটি বিএসএফ জওয়ানদের জন্য নিরাপদ না হলে, আমাদের জন্য তো আরও নিরাপদ নয়। এদিকে প্রণব মন্ডলের স্ত্রী রেখা মন্ডল বলেন, এই সময়টাতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করত তাঁর স্বামী।

কিভাবে বাচ্চাদের মানুষ করবেন বুঝতে পারছেননা তিনি। তিনি চান বিএসএফ প্রনবকে ফিরিয়ে অনুক। এই ঘটনায় বিএসএফের স্পেশাল ডিরেক্টর জেনারেল সঞ্জীব কুমার সিং বলেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ওপারের সাথে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু তারপরেও কেন এরকম ঘটনা ঘটল, তা জানার চেষ্টা করছেন তিনি।

এই রকম আপডেট পেতে লাইক করুন