কলেজ ছাত্রীর পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা মালদার রতুয়ায়

89

মালদা, ১৯ অক্টোবর : কলেজ ছাত্রীর পচা গলা মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে উত্তেজনা মালদার রতুয়ায়। অভিযুক্তের ফাঁসির দাবি তুলে রাস্তা অবরোধ মৃতের পরিবার এবং গ্রামবাসীদের। ঘটনায় সিআইডি তদন্তের দাবি তোলেন মৃতের পরিবার। উল্লেখ্য, গত পাঁচ দিন ধরে নিঁখোজ ছিল সামসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রীর পচা গলা দেহ উদ্ধার হয় কলেজের কাছেই এক ধান ক্ষেত থেকে। অপহরণ করে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের।গ্রেফতার ছাত্রীর হবু স্বামী। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার রতুয়াতে। সামসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মরজিনা খাতুন(২২) গত ১৪ অক্টোবর থেকে নিঁখোজ ছিল সে। পরিবারের তরফে অপহরণের অভিযোগ করা হয়।যার পরিপ্রেক্ষিতে রতুয়া থানার পুলিশ তদন্তে নেমে মরজিনার হবু স্বামী ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত স্থানীয় যুবক বাপি সেখকে গ্রেফতার করে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রতুয়ার বাহারালের উত্তর সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মনসুর সেখের মেয়ে,সামসি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মরজিনা খাতুনের বিয়ে স্থির হয় রুকুন্দিপুর গ্রামের বাপি সেখের সঙ্গে। সে সেনাবাহিনীতে কর্মরত বলে জানা গিয়েছে।

বিয়ের সামাজিক প্রথা মেনে ‘মোহর’ও হয়ে যায়।বিয়ের বাকি অনুষ্ঠান মর্জিনার পড়াশোনা শেষ করার পরেই হওয়ার কথা ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। মর্জিনার পরিবারের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর বাপি সেখ মরজিনাকে সামসিতে কলেজের কাছে দেখা করার জন্যে ডাকে। যেহেতু তাদের মধ্যে বিয়ে স্থির হয়ে আছে তাই মরজিনার বাবা, মা বাধা দেননি। মর্জিনা দুপুরের আগেই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যের পরেও ফিরে না এলে তারা উদবিগ্ন হয়ে ওঠেন। খোঁজ খবর শুরু করেন। ফোন করেন বাপিকে। কিন্তু বাপি জানায়,সেদিন নাকি মর্জিনা তার সঙ্গে দেখাই করেনি। এরপরেও মর্জিনা ফিরে না এলে রাতেই রতুয়া থানায় অভিযোগ জানায় মর্জিনার পরিবার। পুলিশ তৎপর হয়ে তদন্তে নামে। পরে গ্রেফতার করা হয় বাপিকে। ১০দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয় বাপিকে। কিন্তু খোঁজ মেলেনা মর্জিনার।

অবশেষে শুক্রবার রাতে তাঁর পচা গলা দেহ উদ্ধার হয় সামসি কলেজ যাওয়ার রাস্তায় এক ধানক্ষেত থেকে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।শনিবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তের ফাঁসি দাবি তুলে সরব হন মৃতা ছাত্রীর পরিবার এবং গ্রামবাসীরা। তারা রতুয়া থানার বাহারান এলাকায় মালদা রতুয়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয় এলাকায়।অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশ এবং উত্তেজিত জনতার সঙ্গে গন্ডগোল বাধে। পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।পরিস্থিতি সামাল দিতে শূন্যে গুলি ছোড়ে পুলিশ বলে অভিযোগ। এরপর আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এই রকম আপডেট পেতে লাইক করুন