একলা মনে মুজনাইয়ে খেলছে ‘শিশু’ একলা মনে

258

বিশেষ প্রতিবেদন:- সেই দিনটা ছিল ‘৮ ই অক্টোবর’ মঙ্গলবার দশমী। উমা কৈলাসে ফেরার মুহূর্ত আর সবার মনের কনে যেন বিষাদের সুর, ভারাক্রান্ত মন । সে যাই হোক পৃথিবীর নিয়ম যার আগমন হয় তার বিসর্জন ও হয় আর উমার বিসর্জনে তার ব্যতিক্রম হয়না। যাই হোক বিসর্জন হয় আবারও আগমন উপলক্ষ্যে ।সেই আশা নিয়ে ভারাক্রান্ত মন কিছুটা ঠিক করার জন্য আমি আমারই খুবই প্রিয় বন্ধু নির্মাল‍্য, বুবাই,রাজা,লাড্ডু গুপীকে নিয়ে গিয়েছিলাম জনবসতি থেকে কিছুটা দূরে এক নির্জন নদীর ধারে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে মনটাকে একটু তরতাজা করতে।

এই রকম আপডেট পেতে লাইক করুন

সত্যি কী সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সেখানে । এক ধার দিয়ে নদী আপন গতিতে কলকল শব্দে বিরামহীন ভাবে বয়ে চলেছে আর সে দৃশ্য দেখে মনে পড়ল বইয়ের পাতায় পড়া লাইন “সময় বহিয়া যায় নদীর স্রোতের ন্যায় ” এরপর উপরে দেখলাম নীল আকাশের বুকে সারি সারি সাদা মেঘের ভেলা আর তারই নীচে রয়েছে কাশফুলের এক বিশাল সমুদ্র, আর শরৎ কালের এই দৃশ্য এক অপরূপ সৌন্দর্য বয়ে নিয়ে আসে যা ভাষায় প্রকাশ করতে আমি ব্যর্থ ।

আমি এই প্রকৃতির কলে বসে গল্প করছিলাম সকলে মিলে কিন্তু হঠাৎ-ই দেখলাম একটা ছোট্ট ছেলে, যার বাড়ি সম্ভবত নদীর ওপারে, সে নদীর ধারে বসে একাকী খেলে চলেছে যার কোন নেই খেলার সঙ্গী,তবে প্রকৃতিকেই সে নিজের বন্ধু করে নিয়েছে আপন মনে। তার কোন দিকে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই । সে জানে না উমা চলে যাওয়ার বিষাদ, সে শুধু জানে পুজো শেষ আবার আসবে সামনের বছর । আর তার মনে তো কোন পাপও নেই আর অত কিছু বোঝে না আর বুঝতেও চায় না।হয়তো কোন সচ্ছল পরিবারের সন্তান না সে তবে দামি খেলনা হয়তো নেই তার কাছে, পরিবার হয়তো খেলার জিনিস দিতে পারেনি তো কী হয়েছে!! প্রকৃতি তো তার মাঝে শিশুকে জায়গা করে দিয়েছে আর সেখানে সে ‘রাজা’।

আমি তখন তাকে দেখে যাচ্ছিলাম, শিশুটি আপন মনে নদীর ধারে বসে একাকী বসে তার সেই ছোট্ট হাতে যতটা মাটি ওঠে তা নিয়ে নদীতে বাঁধ নির্মাণের এক খেলায় মেতে উঠেছে । তার কোন দিকে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই । সে নিজের মতো আপন মনে একাকী খেলে চলেছে, যার শৈশবকাল পুরোটাই প্রকৃতির মাঝে, যে পাপমুক্ত, সহজ, সরল, নমনীয়, যে জানে না তার চারপাশে ছড়িয়ে আছে বিষাক্ত অনেকে, সে জানে না তার শৈশবটা আর দশটা শিশুদের মতো নয়, সে শুধু জানে সে প্রকৃতির মাঝে খুব ভালো আছে আর প্রকৃতির মতো আর কোনো ভালো বন্ধু নেই তার। সেই সময় সিদ্ধান্ত নেই লিখবো তাকে নিয়ে তার খেলা, তার মনোযোগ সব নিজের ভাবনায় তুলে ধরবো । মোবাইল ফোন টিও বের করে তার সেই খেলার মুহূর্তে ছবিও কিছু তুলে রাখি।শৈশব কালকে যে বড় মনে পড়ে সেটা বলাই বাহুল্য ।

লেখা:- তমাল চক্রবর্তী

এই রকম আপডেট পেতে লাইক করুন