মরণোত্তর দেহদান অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলেন জটেশ্বরের শুভজিৎ সাহা

285
মৃত্যুর পর দেহদান অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলেন জটেশ্বরের শুভজিৎ সাহা

গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে ও সহায়তায় মরণোত্তর অঙ্গদান বা দেহদানের অঙ্গীকার পত্রে স্বাক্ষর করলেন গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য জটেশ্বরের বাসিন্দা শুভজিৎ সাহা(২৪)। ১৫ ই আগস্ট ভারতের ৭৩ তম স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি বিশেষ দিনে বন্ধু বান্ধবদের সান্নিধ্যে পরিবারের মতামতে তিনি দেহদানের অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন।

তার কথায় বর্তমানে রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির স্বার্থে তিনি তার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং শেষ কাজটি করে গেলেন। তিনি চান বর্তমান যুব সমাজ পুরাতন ধ্যানধারণাকে ত্যাগ করুক। তারা আধুনিকতার সাথে চলে মরণোত্তর অঙ্গদানে বা দেহদানে এগিয়ে আসুক এবং অঙ্গের অভাবে মরণাপন্ন রোগীর প্রাণ বাঁচাতে সচেষ্ট হোক।  এছাড়াও তিনি তার পরিবারকে ও যে সমস্ত সংস্থার সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার এই কাজে উৎসাহিত করার জন্য।

গণজাগরণ মঞ্চের জেলা সম্পাদক ডঃ প্রবীর রায় চৌধুরী শুভজিতের এই কাজটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন মারা যাওয়ার পর দেহ পুড়িয়ে বা কবরস্থ না করে সেই দেহ যদি চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে লাগানো হয় এই সচেতনতা খুবই জরুরি। আশা করবো শুভজিৎকে দেখে আরও অনেকে দেহদানে এগিয়ে আসবে। ওর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কামনা করি।

মঞ্চের সদস্য সুমন দত্ত চৌধুরী জানান শুভজিতের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখে আমি আজকে আনন্দিত। সকাল থেকেই আনন্দে ছিলাম কখন সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারব। আমি আমার অন্তরের ঐশ্বর্য তুলে দিতে চাই । সমাজ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের কথা ভেবে ও আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে আমি সাধুবাদ জানাই। এমন সুচিন্তনশীল মানুষের সমাজে দরকার। মঞ্চ আজ গর্বিত।

এর সাথে মঞ্চের সদস্যা স্নেহা মহেশ্বরী বলেন আমরা ওকে অনেকদিন থেকেই চিনি। ওর এই কাজের জন্য আমরা সকলেই খুব গর্বিত। আশা করবো শুভজিৎ এভাবে আগামী দিনেও সমাজের জন্য কাজ করে যাবে।

জানা গেছে জটেশ্বর এলাকায় তিনিই প্রথম দেহদানে অঙ্গীকারবদ্ধ হলেন। তার এই কাজটির জন্য পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা সকলেই গর্বিত।