বিরাট সাফল্য পেলো পুরাতত্ত্ববিদরা, জম্মু-কাশ্মীরে পাওয়া গেলো ১ কোটি ৩০ লক্ষ বছর পুরানো এপের জীবাশ্ম

আমরা যারা কমবেশি ইতিহাস জানি, তারা সকলেই জানি যে মানুষের পূর্বপুরুষ ছিল বানর প্রজাতির। আস্তে আস্তে বহু বিবর্তনের পর বানর প্রজাতির মানুষ সভ্য মানুষের পরিণত হয়েছে। ভারতের আনাচে-কানাচে রয়েছে এমন অনেক অজানা ইতিহাসের রহস্য।এমনই একটি অজানা তথ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর এলাকায়। রয়েল সোসাইটি বি র জার্নাল সূত্রে জানা গেছে,বেশ কিছুদিন আগে উধম পুর জেলার রামনগর এলাকায় বহু পুরনো জিনিসপত্র সন্ধান পাওয়া যায়। সেই খবরের সূত্র ধরে পুরাতত্ত্ববিদ এর একটি দল পৌঁছে যায় জম্মু-কাশ্মীরের ওই এলাকায়। এই পুরাতত্ত্ববিদ এর দলের মধ্যে ছিলেন আমেরিকার অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিষয়ক গবেষক এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ এর গবেষকরা।

গত বছর থেকেই এই পুরাতত্ত্ববিদেরা রামনগরে বিভিন্ন এলাকায় তাদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিক থেকে স্থানীয় এক পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সন্ধানের কাজে। ওই পাহাড়ের মধ্যে একটি জায়গায় আবর্জনার স্তুপ থেকে একটি চকচকে জিনিস উদ্ধার করেন গবেষকরা। ভালো করে দেখে তারা বুঝতে পারেন যে সেটি হল একটি মাড়ির দাঁত। দেখামাত্রই তারা বুঝতে পারেন যে কোন সাধারণ প্রাণীর দাঁত নয়, এর পরেই সঠিক তারা গবেষণাগারে নিয়ে আসেন গবেষণার জন্য।এর আগেও গবেষকরা বহু স্থান থেকে বহু জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন।

তবে তাদের দাবি অনুযায়ী এই ধাত্রী আগের সব দাঁতের থেকে ভিন্ন। মনে করা হচ্ছে যে, এই দাঁত টি একটি নতুন প্রজাতির এপের। ১ কোটি ৩০ লক্ষ বছরের পুরনো এই প্রজাতির প্রাণী সুদূর আফ্রিকা থেকে এশিয়ার পথে চলে এসেছিল।প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গবেষকদের একাংশের ধারণা অনুযায়ী, এটি কোন বানর প্রজাতির হতে পারে।এই উদ্ধারকার্যে রাগে রামনগর এলাকায় তেমন কিছু জীবাশ্মের খোঁজ পাওয়া যায়নি। নতুন এই প্রাপ্তিতে স্বাভাবিকভাবেই খুশি পুরাতত্ত্বের গবেষকরা। এত পুরনো প্রজাতির এপের জীবাশ্মের সন্ধান এই প্রথম পেয়েছেন তারা। জীবাশ্ম টিকে আরো ভালোভাবে পরীক্ষা করে জানার চেষ্টা করা হবে কোটি কোটি বছর আগেকার কাহিনী।