৬৬ মিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুর ধাক্কায় ডাইনোসর মুছে গেলেও রয়েগেছে পাখি কুল! দেখুন কিভাবে

আদিম পৃথিবীতে রাজত্ব করতো বিশালদেহী ডাইনোসর। বিবর্তনের চাপে ধীরে ধীরে তারা পৃথিবী থেকে অবলুপ্ত হয়ে যায়। ডাইনোসরের অবলুপ্তি সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালাচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকেরা। একদল গবেষকের মতে, আদিম পৃথিবীতে ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাতের মতো ভয়ঙ্কর কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণেই পৃথিবী থেকে এই বিশাল দেহীরা অবলুপ্ত হয়ে গেছে।

তবে সম্প্রতি, ডাইনোসরের অবলুপ্তি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুন এক তত্ত্ব সামনে নিয়ে এলেন একদল গবেষক। তারা জানাচ্ছেন, আজ থেকে প্রায় ৬৬ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর বুকে যখন ডাইনোসর রাজত্ব করত, তখন আচমকাই মহাকাশ থেকে একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে এসে আছড়ে পড়ে। যার ফলে পৃথিবীতে বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। প্রায় ১২ কিলোমিটার চওড়া ওই গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবীতে এক বিশাল জ্বালামুখের সৃষ্টি হয়।

গবেষকদের দাবি, গ্রহাণুটি এত জোরে পৃথিবীতে আছড়ে পড়েছিল যে যেখানে সেটি আছড়ে পড়ে সেখানে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চওড়া এবং প্রায় কয়েক কিলোমিটার গভীর একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, এর ফলে পৃথিবীতে প্রবল সুনামি সৃষ্টি হয়েছিল। মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপীয় অঞ্চলে এ রকমই এক গভীর খাতের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। বর্তমানে এই খাতের বেশিরভাগ অংশই রয়েছে গভীর সমুদ্রের নিচে।

এই গর্তের উপরে প্রায় ৬০০ মিটার পুরু পলির আস্তরণ পড়েছে। যার উপরিভাগ চুনাপাথর দিয়ে ঢাকা। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন ওই প্রবল বিস্ফোরণে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, পাখিরা কিন্তু পৃথিবীতে টিকে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে যখন গ্রহাণু বিস্ফোরণ হয় সেসময় পৃথিবীর বেশিরভাগ খাদ্যবস্তু মাটির তলায় চাপা পড়ে যায়। ফলে খাদ্য সংগ্রহে অপারগ ডাইনোসরের বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু পাখিরা তাদের লম্বা চঞ্চু দ্বারা মাটির ভেতর থেকে খাদ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। তাই প্রবল বিপর্যয়ের মধ্যেও তারা পৃথিবীতে অনায়াসেই টিকে থাকতে পেরেছিল।