মাদ্রাসা স্কুল শিক্ষকের সাথে আল-কায়দা কানেকশন, ধৃত জঙ্গিগোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে একের পর এক আল-কায়েদা জঙ্গী’ সংগঠনের সক্রিয় সদস্য ধরা পড়ছে । সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থেকে আব্দুল মোমিন নামক একজনকে জঙ্গী সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। রানিনগরের নজরানা সরকারপাড়ার বাসিন্দা ৩২ বছর বয়স্ক আব্দুল মোমিন পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার অছিলায় তলে তলে জঙ্গী কার্যকলাপের সক্রিয় সদস্য ছিল আব্দুল মোমিন।

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত আব্দুল মোমিন আল-কায়েদা জঙ্গি গোষ্ঠীর পশ্চিমবঙ্গ মডিউলের এক সক্রিয় সদস্য ছিল। যার প্রধান কাজ ছিল জঙ্গি কার্যকলাপ চালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা। তহবিল গড়ে তোলার পাশাপাশি, জঙ্গী সংগঠনের নতুন সদস্য নিযুক্ত করার ভার ছিল তার উপর। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশকিছু ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিসহ নিষিদ্ধ জেহাদী বই বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

উল্লেখ্য, ধৃত আবদুল মোমিনকে প্রথমে মুর্শিদাবাদের আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেছে আদালত। উল্লেখ্য, এই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত পক্ষে ১১ জন আল-কায়েদা জঙ্গী’ কে গ্রেপ্তার করলো এনআইএ। এনআইএ সূত্রে খবর, ধৃত বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সফর করেছে। দিল্লির একটি মাদ্রাসা ও দক্ষিণ ভারতের একটি ধর্মঘেঁষা রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল।

শুধু তাই নয়, মুর্শিদাবাদে আল-কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের যতগুলি বৈঠক হয়েছিল, তার প্রত্যেকটিতে উপস্থিত ছিল আব্দুল। মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছাত্রকে জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট করে তুলতে সক্ষম হয়েছে সে। তার প্রতি অভিযোগ, নতুন মাদ্রাসার স্থাপনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নাম করে টাকা তুলত সে। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই টাকা দিয়েই সন্ত্রাসবাদি কার্যকলাপ চালানোর পরিকল্পনা করছিল আল কায়েদা, এমনটাই দাবি করছেন এনআইএ সদস্যরা।