হাসপাতালে নেই কেউ, পিপিই পরে নিজেই দাদার দেহ মর্গে নিয়ে গেলেন ভাই!

পিপিই পরে নিজেই দাদার দেহ মর্গে নিয়ে গেলেন ভাই
প্রতীক ছবি

দেশে করোনার ব্যাপক প্রভাব। শহর কলাকাতাতেও প্রভাব কিছুতেই কম নয়। একটি হাসাপাতালে করোনা সংক্রমন ছড়াতেই অমনি বন্ধ করে দেওয়া হয় কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, এরপর বন্ধ চিত্তরঞ্জন মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালও। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জরুরি বিভাগ সহ বেশ কয়েকটি বিভাগ। তাই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে একেবারে মাছি মারার অবস্থা। মৃতদেহ সরানোর কেউ নেই। তাই অবশেষে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে মর্গে মৃতদেহ সরালেন দাদা। চার পাঁচদিন আগে দাদা মারা গেলেও দেহ পাননি। অবশেষে তিনি নিজেই দেহ নেন পিপিই পরে।

এমনিতেই করোনার জেরে আপাতত সমস্ত হাসপাতাল গুলিতে বন্ধ রয়েছে চুক্তভিত্তিক কর্মীদের কাজ। তাই মরা সরানোর জন্য কোনো লোক নেই। প্রকাশ্যে আসতেই হাসাপাতল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দমদমের বাসিন্দা মহম্মদ রাজা বলেন, ‘‘দাদা সুগারের রোগী। কয়েক দিন ধরে সুগার বেড়ে গিয়ে শরীর খারাপ হয়। সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। বাড়ির কাছে এক চিকিৎসককে দেখালে তিনি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসতে বলেন দাদাকে।” এরপর হাসাপাতালের সুপার স্পেশালিটি ব্লকে ভর্তি করা হয় তাঁকে কিন্তু করোনা সন্দেহে তাঁকেও আইসোলেশনে রাখা হয়।

তারপরদিনই তাঁর দাদা মারা গিয়েছেন বলে হাসপাতাল থেকে ফোন করা হয়। পরে তিনি আরও বলেন ‘‘বিকেলে আমাকে হাসপাতাল থেকে একজন একটি পিপিই দেন। ডাক্তার বা নার্সরা যেগুলো পরেন সে রকম একটা। তার পর আমাকে হাসপাতালের এক কর্মী নিয়ে যান দোতলার ওয়ার্ডে।” এরপর তিনি দেখেন গোটা ওয়ার্ড ফাঁকা, কেউ নেই। তিনি বাধ্য হয়ে দাদার মৃতদেহ নিজের হাতে তুলে নেন।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন