কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া আইন, রূপান্তরকামীদের শংসাপত্র পেতে লাগবে না কোনো মেডিক্যাল পরীক্ষা

সম্প্রতি আমাদের ভারতবর্ষে পুলিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গের পাশাপাশি সমানভাবে সম্মান পায় থার্ড জেন্ডার অর্থাৎ রূপান্তরকামীরা।প্রথমে রূপান্তরকামীদের একটি শংসাপত্র জোগাড় করতে গেলে যেতে হতো সংশ্লিষ্ট স্তরের আধিকারিকদের কাছে। করতে হতো মেডিক্যাল পরীক্ষা। তবে এখন আর রূপান্তরকামীদের কোন রকম শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে না।অবশেষে নতুন আইন চালু করল কেন্দ্র যার ফলে সমস্ত শারীরিক হেনস্থা থেকে মুক্তি পেতে চলেছে রূপান্তরকামীরা। বহু রূপান্তরকামী সমাজ এবং ব্যক্তি জীবনে অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্র ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ দুই হাজার কুড়ি প্রকাশিত হয়েছে।

এই আইনে বলা হয়েছে যে,লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য আর কোন জেলা শাসককে আবেদন করতে পারবেন রূপান্তরকামীদের। এর জন্য কোন মেডিক্যাল পরীক্ষা করতে হবে না। কোন রকম শারীরিক পরীক্ষা ছাড়া দিতে হবে লিঙ্গের সার্টিফিকেট। ওই আইনে আরো বলা হয়েছে যে, যতদিন না অনলাইন পদ্ধতি চালু হচ্ছে, ততদিন জেলা শাসকের কাছে গিয়ে আবেদন জমা দিতে হবে আবেদনকারীকে। কোন সময় সন্তানদের যেতে অসুবিধা হলে তাদের হয়ে আবেদন করতে পারবেন রূপান্তরকামীদের বাবা-মা। বেশ কয়েক বছর ধরে রূপান্তরকামীদের সরকারিভাবে নথিপত্র করার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। নতুন আইন চালু করার আগে যারা ইতিমধ্যেই লিঙ্গ পরিবর্তন করে রূপান্তরকামী শংসাপত্র পেয়েছেন, তাদের আর নতুন করে আবেদন করতে হবে না। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলিকেও রূপান্তরকামীদের কল্যাণে বোর্ড গঠনের নির্দেশ পাঠিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।

শুধুমাত্র দাবি-দাওয়া মেটানো নয়, সরকারের তরফ থেকে আর কি কি অনুদান তারা পেতে পারেন সেই বিষয়েও নজর রাখবেন বোর্ডের আধিকারিকরা। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা,সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা সহ আরো অন্যান্য বিষয় জানার জন্য রূপান্তরকামীদের সাক্ষাৎকারের বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থা করেছে ওই বোর্ড। মন্ত্রক সূত্রে খবর, জেলাশাসক দের কাছে শারীরিক পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রূপান্তরকামীরা। তাই শেষ পর্যন্ত ওই অংশটি বাতিল করে নতুন আইন শুরু করলেন ভারত সরকার।