ক’রোনার জেরে স্কুল ফান্ডে কোপ, দেশে বিক্রির পথে প্রায় এক হাজার স্কুল!

করোনা মহামারীর প্রভাবে দেশে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি। এর প্রভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পড়ুয়ারা, তেমনই মূলধনের অভাবে ধুঁকছে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি। পরিস্থিতি এমনই যে অদূর ভবিষ্যতে স্কুল গুলিকে বিক্রি করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি Cerestra Ventures এ সংক্রান্ত একটি সমীক্ষার রিপোর্ট পেশ করেছে। এই রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলিকে বাঁচাতে এই মুহূর্তে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রয়োজন।

এই বিপুল পরিমাণে টাকা মেটাতে অপারগ বেসরকারি সংস্থান গুলি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা গুলিতে প্রধানত শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ অন্যান্য কর্মীদের বেতন, এবং স্কুলের যাবতীয় খরচ উঠে আসে ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের মধ্য থেকে। কিন্তু করোনাকালে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ। অভিভাবকেরাও স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত বিপুল পরিমাণে বেতন দিতে অপারগ। তবে এরই মাঝে অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষকে একপ্রকার নিজেদের ফান্ডের টাকাই খরচ করতে হচ্ছে।

এদিকে, বেশ কয়েকটি রাজ্যে সরকার স্কুলের বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষের আয় বর্তমানে একেবারেই তলানিতে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতিতে বেশিদিন স্কুল চালানো সম্ভব নয়। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষা কর্মীদের বেতন প্রায় ৭০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার বিনিয়োগে চলে। প্রত্যেক সংস্থারই আলাদা ব্যবসা থাকে। তবে, করোনা পরিস্থিতিতে সব ব্যবসায়ই কোনো না কোনো ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে স্কুলের জন্যে ফান্ডিং ঠিকভাবে মিলছে না। ফলে বিনিয়োগকারীর অভাবে কার্যত বাধ্য হয়েই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মালিকানা হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে স্কুলের মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ভবিষ্যতে মূলধনের অভাবে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি ধীরে ধীরে বিক্রি হয়ে যেতে বসেছে।