রাস্তায় ফেলে যাওয়া আবর্জনা পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়ে ৮০ কিমি পথ পাড়ি ব্যক্তির

যেমন কর্ম, তেমন ফল। চলতি রাস্তায় আবর্জনা ফেলে নোংরা করার পর সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে আবারও তা তুলে নিতে বাধ্য হলেন এক পর্যটনকারী। ঘটনাটি ঘটেছে কর্নাটকের ব্যাঙ্গালোরে। গত অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখ, শুক্রবার ব্যাঙ্গালোরের কোদাগু ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধার মাদেশিরা থিম্মাইহা চলমান রাস্তার উপর কিছু নোংরা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখেন।

উল্লেখ্য, সেই সপ্তাহের বুধবারেই তিনি স্থানীয় কাদাগাডালু গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে এলাকা আবর্জনা মুক্ত করেছিলেন। দু’দিনের মধ্যেই রাস্তায় এরকম নোংরা পড়ে থাকতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুন্ন হন মাদেশিরা। এই আবর্জনার মধ্যে ছিল পিৎজ্জার খালি প্যাকেট। বহু ভ্রমণার্থী প্রায়শই কর্নাটকের ওই এলাকায় ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ এই কাজ করে থাকবেন বলে সন্দেহ করেছিলেন মাদেশিরা।

আবর্জনার প্যাকেটের মধ্যেই সেই ভ্রমণার্থীর ফোন নাম্বার পেয়ে যান মাদেশিরা। বিকৃত মানসিকতা এবং দেশের স্বচ্ছতা সম্পর্কে উদাসী মনোভাবপন্ন মানুষদের উপযুক্ত শিক্ষা প্রদান করতে প্রথমে ওই নম্বরে ফোন করে অবিলম্বে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবর্জনা সরানোর জন্য আবেদন জানান তিনি। এতে কাজ না হলে অবশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বারস্থ হন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ওই ভ্রমণার্থীর কাছে একের পর এক ফোন আসতে থাকে। ফলে রীতিমতো বাধ্য হয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবর্জনা সরাতে বাধ্য হন ওই আবর্জনার মালিক। উল্লেখ্য, আবর্জনা সরানোর জন্য তাকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। দেশের স্বচ্ছতা রক্ষা প্রসঙ্গে যারা এখনো উদাসীন, যারা প্রায়শই আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে যত্রতত্র ফেলে দেন, তাদের জন্য এই শাস্তি কিন্তু একেবারেই উপযুক্ত নিদর্শন হিসেবে থাকলো।