কৃষিকাজে নয়া উদ্যোগ, বাংলার ধানের জমিতে হচ্ছে মাছ চাষ

ধান চাষ এবং মাছ চাষ, এতদিন দুটো কে আমরা আলাদা জেনে এসেছি।কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনা এবং মালদহের প্রকল্পকে এবার পরীক্ষা মূলক ভাবে পুরুলিয়াতে শুরু করলো কৃষি দপ্তর। নিতুরিয়া ব্লকের দীঘা গ্রাম পঞ্চায়েতের লালপুর গ্রামে কৃষকের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমন চাষের সঙ্গে মাছ চাষ করা শুরু করা হয়েছে।নিতুরিয়া ব্লক কৃষি দপ্তর ওই কৃষককে উৎসাহ দিয়ে কাজটি করার জন্য সাহায্য করেছে।তবে ধানের জমিতে এই মাছ চাষ করার জন্য কৃষককে সব রকম ভাবে সাহায্য করেছে নিতুরিয়া ব্লগ কৃষি দপ্তর।নিতুরিয়া ব্লক কৃষি দপ্তর কথায়, এই বিষয়টি একেবারেই অবিশ্বাস্য নয়।

একই সঙ্গে একই জমিতে ধান এবং মাছ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছে অনেক কৃষকরা।এবার এই কাজ পুরুলিয়াতে প্রয়োগ করে সেই এলাকার কৃষকদের নতুনভাবে লাভের মুখ দেখানোর জন্য সাহায্য করতে চাইছে কৃষি দপ্তর।ইতিমধ্যেই প্রায় হাজার দুয়েক টাকা রুই,কাতলা, মৃগেল মাছের চারা কিনে স্বপন বাউড়ি নামে কৃষককে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিভাবে হচ্ছে এই চাষ?এক বিঘা ধানের জমির একপাশে ১০ ফুট চওড়া এবং ছয় ফুট গর্ত করে কাটা হচ্ছে হাপা। এই হাপা বৃষ্টির জলে একেবারে ভর্তি হয়ে যাবার পর সেখানে ছাড়া হচ্ছে মাছের চারা।

তবে মাছের চারা আর ঘুরে বেড়ানোর জন্য কই দশ ফুট চওড়া হাপা একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।এই প্রসঙ্গে নিতুরিয়া ব্লক সরকারি কৃষি অধিকর্তার পরিমল বর্মন জানিয়েছেন,”মাছের চারা গুলি দিনের বেলা গরমে চলে যাবে ওই হাপাতে। এরপর বিকেল বেলার রোদ কমার পর মাছের চারা সমগ্র জমিতে ঘোরাফেরা করবে। মাছ সাধারণত জুপ্লাংকটন খায়। ধানের জমিতে এই খাবার গাছের গোড়ায় থাকে। তাই ধান চাষ করার ফলে মাছের খাদ্যের চাহিদা এমনিতেই মিটে যাচ্ছে।গাছের গোড়ায় থাকা একেবারে ছোট ছোট পোকা মাছ যদি খেয়ে ফেলে তাহলে ধানের কোন সমস্যা হবে না”।

সাধারণত মাছ চাষের জন্য গভীর জলের প্রয়োজন হয়। ধানের জমিতে গভীর জল না থাকার কারণে ওই হাপা কাটা হয়। অর্থাৎ যেখানে জলের সমস্যা থাকে সেখানে মাছ চাষ করা যায় না। কিন্তু ধানের জমিতে এইরকম বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার ফলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন বলে আশাবাদী কৃষি দপ্তর। তবে মাছ চাষ করার জন্য ধানের জমিতে কোন রকম কীটনাশক প্রয়োগ করা যাবে না। জৈব সার এবং জৈব কীটনাশক দিয়ে ধান চাষ করতে হবে।