মহাকাশে দুই দৈত্যাকার ব্ল্যাকহোলের তুমুল লড়াই, খোঁজ দিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির মহাকাশ গবেষকেরা পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত দুটি বিশালাকৃতির ব্ল্যাকহোলের মধ্যে সংঘাতের খবর দিলেন। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের অ্যাডভান্সড লাইগো লেজ়ার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি এবং অ্যাডভান্সড ভার্গো ইন্টারফেরোমিটার অবজারভেটরি থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই দুটি বিশালাকৃতির ব্ল্যাকহোল পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত। সেখান থেকেই আবার নতুন ব্ল্যাকহোলে সৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার, “দ্য ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স” এবং “অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স” নামক দুটি সায়েন্স জার্নালে বিজ্ঞানীদের এই গবেষণার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট থেকে জানা গেল, দুটি ব্ল্যাকহোলের ভর সূর্য থেকে অনেক বেশি। একটি ব্ল্যাকহোলের ভর সূর্যের থেকে প্রায় ৮৫ গুণ বেশি।

অপর একটি ব্ল্যাকহোলের ভর থেকে সূর্যের থেকে প্রায় ৬৬ গুণ বেশি। এই দুটির সংঘাতে তাদের মাঝখানে যে বিশাল আকৃতির কৃষ্ণ গহ্বর মার্জার সৃষ্টি হয়েছে, তার ভর সূর্যের থেকে প্রায় ১৪২ গুণ বেশি। এই মার্জারের নাম GW190521 রাখা হয়েছে। এই মার্জারের আকর্ষণ শক্তি এতটাই প্রবল যে, বাকি দুটি কৃষ্ণ গহবরকে নিজের দিকে টেনে রাখতে সক্ষম। এই সংঘর্ষের ফলে মহাকাশের মহাকর্ষীয় তরঙ্গের উৎপত্তি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরগান্ধীনগরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি ও চেন্নাইয়ের ম্যাথেমেটিক্যাল ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এরকমই অপর একটি ব্ল্যাকহোলের সন্ধান পেয়েছিলেন। যে ব্ল্যাক হোল একটি বিশাল আকৃতির নিউট্রন তারাকে নিজের দিকে আকর্ষণের চেষ্টা করছিল। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের লাইগো ও ভার্গো ডিটেক্টরে সেই মহাকর্ষীয় তরঙ্গ ধরা পড়েছিল। তবে নতুন এই দুইটি ব্ল্যাকহোলের সন্ধানে সমান কৃতিত্বের অংশীদার আইআইটি-বম্বে ও আইআইটি-গান্ধীনগরের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।