স্কুল খোলার বিরুদ্ধে কলকাতার ৯০ শতাংশ অভিভাবকরা: সমীক্ষা

কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত সোমবার থেকে দেশের আটটি রাজ্যে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পঠন-পাঠন শুরু করা হয়েছে। আনলক চার পর্বে আটটি রাজ্যের পাশাপাশি,ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর স্কুলগুলিও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলায় এখনই স্কুলে পঠন-পাঠন শুরু করতে চাইছেনা রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখা হবে।

তবে সেপ্টেম্বর মাস তো দূরের কথা, অক্টোবর মাসেও রাজ্যের স্কুলগুলিকে খোলা হোক, এটাও চাইছেন না অভিভাবকের একাংশ। বিভিন্ন অনলাইন সমীক্ষা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আয়োজিত ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্ততপক্ষে এমনই তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পড়ুয়াদের সব রকমের নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও, অভিভাবকেরা এখনই ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে নারাজ।

স্কুলের তরফ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, স্কুল চত্বরে যথাযথ স্যানিটাইজেশন এর ব্যবস্থা করবেন তারা। পাশাপাশি স্কুলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হবে। স্কুল খোলার ক্ষেত্রে আরও বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেমন, ছাত্র-ছাত্রীদের ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হবে। একেক দিন একেক গ্রুপ স্কুলে আসতে পারবে। বহু স্কুলের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই অভিভাবকদের অনলাইনে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কথাও বলা হয়েছে। তবে ৯০ শতাংশ এই মুহূর্তে স্কুল খোলার বিপক্ষে রায় দিয়েছেন।

এদিকে অভিভাবকদের মতকেও গুরুত্ব দিয়ে বিচার করে কেন্দ্রের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের এখনই স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে জোরাজুরি করবে না কেন্দ্র। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকদের সম্পূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তাই, স্কুলে আসতে গেলে এখন থেকে পড়ুয়াদের তাদের অভিভাবকের অনুমতি পত্র সঙ্গে আনতে হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর স্কুল পরিচালনা করার জন্য, কেন্দ্রের তরফ থেকে ৫০% শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীকে স্কুলে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।