মিশরে রহস্যের হাতছানি, উদ্ধার হল আড়াই হাজার বছর পুরনো ৫৯টি মমি

ইতিহাস বরাবরই মানুষকে টানে। তাই যতবার ভূগর্ভ থেকে ঐতিহাসিক নিদর্শন পেয়েছে মানুষ, ততবার অতীতের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে সেই নিদর্শন যদি হয় মিশরের মমি, তাহলে ঐতিহাসিকদের আগ্রহ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কি এক অসাধারণ মন্ত্রবলে যেন হাজার হাজার বছর ধরে অবিকল অক্ষত থেকে যায় মানব শরীর। যেখান থেকে অতীতের বহু রহস্যময় তথ্য জানতে পারা যায়। মমি নিয়ে মানুষের আগ্রহ তাই দিন প্রতিদিন বেড়েই চলে।

সম্প্রতি, মিশরের কায়রো শহর থেকে আরও দক্ষিণের সাক্কারা এলাকার তিনটি কুয়ো থেকে অন্তত পক্ষে ৫৯টি মমি উদ্ধার করেছেন ভূতাত্ত্বিকরা। পুরাতত্ত্ববিদদের দাবি, এই মমি গুলি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। এই মমি গুলির ওপর গবেষণা চালিয়ে অতীতের বহু মূল্যবান তথ্য জানতে পারা যাবে বলে মনে করছেন তারা। শনিবার, একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে উদ্ধার হওয়া মমি গুলির মধ্য থেকে একটি কফিন বা সার্কোফাগি খোলা হয়।

সেই সার্কোফাগির মধ্য থেকে কাপড় জড়ানো অবস্থায় একটি মমি বের হয়। সেই কাপড়ের উপর উজ্জ্বল রঙে হায়ারোগ্লিফিক লিপিতে বেশ কিছু কথা লেখা ছিল। তবে তার অর্থ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মিশরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী খালিদ এল আনানি জানালেন, এত নিখুঁত এবং সুন্দরভাবে মমি গুলিকে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে যে, দেখে মনে হচ্ছে যেন গতকালকেই কফিনের মধ্যে ঢোকানো হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে প্রথমে ওই কুয়োগুলি থেকে ১৩টি মমির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

এরপর ওই এলাকায় খননকার্য শুরু করতেই ৪০ ফুট গভীর থেকে বাকি মমি গুলিকে উদ্ধার করা হয়। পুরাতত্ত্ববিদেরা জানাচ্ছেন, ওই এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি মমির কফিন রাখা আছে। সেগুলি এখনো উদ্ধার করা বাকি। মমির কফিনগুলি কাঠ দ্বারা নির্মিত, তার উপর সুন্দর নকশা করা রয়েছে। উল্লেখ্য, মিশরের সাক্কারা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে খ্যাত। তিন হাজার বছর আগে সাক্করার সমাধিক্ষেত্রে মৃতদেহ কবর দেওয়া হত। এখানে রয়েছে বিখ্যাত গিজার পিরামিড। সাক্কারা মালভূমিতে অন্তত ১১টি পিরামিড রয়েছে যার মধ্যে বহু সম্রাট ও আধিকারিকের মমি সংরক্ষিত রয়েছে।