উপত্যকায় জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবায় মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়, বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

গত বছর উপত্যকা অঞ্চলের উপর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু এবং কাশ্মীর বর্তমানে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে প্রকাশিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী এক বছরের জন্য উপত্যকা অঞ্চলের বাসিন্দারা জল এবং বিদ্যুৎ বিলের উপরে ৫০ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন।

শুধু তাই নয়, ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে যারা লোন নিয়েছেন তাদের জন্যেও বড় ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ঋণের সুদের ওপর আগামী ছয় মাসের জন্য ৫% হারে ছাড় পাবেন ব্যবসায়ীরা। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রের প্রায় ১৩৫০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। করোনা মহামারীর আবহে জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্পকে রক্ষা করতে শনিবার লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন।

মনোজ সিনহা এদিন জানিয়েছেন, মহামারীর আবহে উপত্যকা অঞ্চলে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে ১৩৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হল। আগামী বছরের মার্চ মাস অব্দি উপত্যকা অঞ্চলের ঋণগ্রহীতাদের কোনো স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প এবং স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাইরেও সুযোগ-সুবিধা পাবেন জম্বু কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসার পাশাপাশি উপত্যকা অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের উপরেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকের তরফ থেকে পর্যটন এবং স্বাস্থ্য প্রকল্প চালু করা হবে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি যে সকল ব্যবসায়ীরা তাঁত এবং হস্ত শিল্পের সঙ্গে যুক্ত তাদের জন্য বিশেষ ক্রেডিট কার্ডের ব্যবস্থা করবে কেন্দ্র। পাশাপাশি, ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের উপর ৭ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন তারা। এছাড়াও, ১ লা অক্টোবর থেকে মহিলা এবং অল্প বয়সী ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকের তরফ থেকে বিশেষ ডেস্ক চালু করা হতে চলেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।