কুয়োতে পড়ে যাওয়া বাছুরকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু ৫ জনের, শোকপ্রকাশ যোগী আদিত্যনাথের

দেশে যেখানে বহুবার গর্ভবতী মহিষ অথবা গর্ভবতী হাতি কে মেরে ফেলার জন্য উত্তাল হয়েছে সারাদেশ,ঠিক সেখানেই কুয়োতে পড়ে যাওয়া একটি বাছুর কে বাঁচাতে গিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হল। গত মঙ্গলবার এর মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে লখনৌ এর গোন্ডা জেলার কোতোয়ালি এলাকায়।পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে,একটি বাছুর হঠাৎ করে কুয়োতে পড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে এক পরিবারের চার সদস্য কুয়ো তে নেমে পড়েন। সেই বছর থেকে উদ্ধার করা গেলেও কুয়ার মধ্যে বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের কারণে একই পরিবারের ৪ সদস্য এর কেউ উপরে উঠে আসতে পারেননি। তবে পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে যে, ওই বাচ্চুর টি মৃতদের মধ্যে কারুর ছিল না।

শুরু মানবিকতার খাতিরে একটি কলা প্রাণ কে উদ্ধার করার জন্য প্রত্যেকে তাদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দিলেন।এই মর্মান্তিক ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নিজের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।ইতিমধ্যেই নিজেদের শনাক্ত করা গিয়েছে।তারা হলেন বৈভব, দীনেশ, রবি শংকর, বিষ্ণু দয়াল।এরা প্রত্যেকেই মহারাজ গঞ্জের বাসিন্দা। ঘটনাটি ঘটেছে কোতোয়ালি থানার মহারাজগঞ্জ পুলিশ আউটপোস্ট এর অন্তর্ভুক্ত রাজা মহল্লা এলাকায়।অন্য আরেকটি দেহ সনাক্ত করা গেছে,সেদিন ওই জেলার বাহুদা তার হার এলাকার বাসিন্দা মান্নু শাইনি বলে একজন ব্যক্তির।

দীনেশ এবং রবি শংকর হলেন দুই ভাই। তারা একই পরিবারের দুই রোজগেরে ছেলে। বিষ্ণুপুরাণ দীনেশ এবং রবির তুতো ভাই। বৈভব তাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। মান্নু অন্য গ্রামের ছেলে হলেও, কুয়োতে পড়ে যাওয়া অসহায় মানুষদের বাঁচাতে গিয়ে তিনি ওপরে যান। এরপর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসকষ্ট হয় তারা সকলেই মারা যান বলে ধারণা পুলিশের।পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, মৃতরা সকলেই বাজারে ফল এবং সবজি বিক্রি করে জীবন ধারন করেন। প্রাথমিক অনুমান, করবে তোরে থাকা মিথেন গ্যাস শরীরের মধ্যে প্রবেশ করায় সকলের মৃত্যু হয়েছে।

তবে যতক্ষণ না ময়না তদন্ত হচ্ছে, ততক্ষণ সঠিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায়, মঙ্গলবার দুপুর তিনটে নাগাদ শুনতে পান ওই বাছুরের আর্তনাদ। বাছুরটিকে বাঁচানোর জন্যকুয়েতে ঝাঁপ দিলেও কোনো উপকার না হওয়ায় তিনি সাহায্যের জন্য ডাকেন বৈভব কে।এরপর বৈভব কুয়ার মধ্যে নেমে যখন বুঝতে পারেন যে বিপদে পড়ে গেছেন তখন কান্নাকাটি জুড়ে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করতে থাকেন। এরপর তাদের সাহায্য করার জন্য দীনেশ এবং রবি শংকর দুজনেই নেমে পড়েন কুয়োর মধ্যে। অবশেষে বাজার থেকে বাঁচানো গেলেও তারা কেউ উঠতে পারেননি ওপরে। পরে গ্রামবাসীরা তাদের আর্তনাদ শুনে সেখানে পৌঁছে যায়। তারা অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পর তাদের উদ্ধার না করতে পেরে পুলিশকে ডাকেন। দু’ঘণ্টার চেষ্টার পর দমকল এবং পুলিশের যৌথ চেষ্টায় পাঁচটি নিথর দেহ উদ্ধার করা হয় ওর মধ্যে থেকে।

সব খবর সরাসরি পড়তে আমাদের WhatsApp  Telegram  Facebook Group যুক্ত হতে ক্লিক করুন

/p>