২৭ জনের মৃ’ত্যু একদিনে, এ’তো বজ্রপাত কে’নো হচ্ছে? জানুন কারণ

বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাতের কারণে এক দিনেই রাজ্য জুড়ে ২৭ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে তৎপর বিশেষজ্ঞ মহল। গতকাল বজ্রাঘাতে মুর্শিদাবাদে ৯ জন, হুগলিতে ১১ জন, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩ জন, বাঁকুড়া জেলায় ২ জন ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই খবরে স্বভাবতই শোকস্তব্ধ বাংলা। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে একদিনের মধ্যেই বজ্রাঘাতের কারণে ২৭ জনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই চিন্তিত প্রশাসন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা অবশ্য জানাচ্ছেন, মে-জুন মাসের দিকে এমনিতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাতের প্রভাব বেড়ে যায়। তবে অন্যান্য বারের তুলনায় চলতি বছরে যেন বাংলার উপর প্রকৃতির রুদ্র রূপের প্রভাব কিছু বেশিই পড়ছে। এর কারণ হিসেবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকেই চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের দাবি হালফিলের ঘূর্ণিঝড়ের দরুন পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প প্রবেশ করেছে। জাতীয় কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সৃষ্টি করছে। এই মেঘ কার্যত বজ্রপাত ঘটিয়ে থাকে। তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের তরফ থেকে ইতিপূর্বেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সময় বারংবার ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে। তবে দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষ সেই পরামর্শ শুনতে নারাজ। যে কারণে এত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের সময় মাঠে কাজ করতে নিষেধ করেন বিশেষজ্ঞরা। বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত শুরু হলে কোনো শেডের নিচে কিংবা পাকা বাড়ির ছাদের তলায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে বজ্রপাতের প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের দাবি, বন-জঙ্গল ধ্বংস করে কংক্রিটের বাড়ি বানানো এবং অ্যাসবেস্টসের রাস্তা তৈরি করার মাশুল গুনতে হচ্ছে মানব প্রজাতিকে। এতে পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়ছে। যে কারণে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।