13 দিনে 13 টাকা পকেটে নিয়ে 672 কিমি সাইকেলে, বাড়ি ফিরলেন শক্তিমান শফিকুল

চীন দেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের আজও কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় লকডাউন করেই এই ভাইরাসকে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। লকডাউনের জন্য বন্ধ কল-কারখানা, দোকানপাট, অফিস কাছারি সবকিছুই তাই যেসব মানুষ শ্রমিকের কাজ করে তারা আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন যাপন করছে।এমনই কিছু শ্রমিকদের মধ্যে একজনের নাম শফিকুল। বিহারের মধুবনিতে ঝাঁটা তৈরীর কারখানায় তিনি কাজ করতেন। বেশি আয়ের তাগিদে লকডাউন শুরুর দিন দশেক আগে এই কাজে তিনি যোগ দেন। লকডাউন এর জন্য এই কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় শফিকুল-সহ অন্য শ্রমিকদের।সম্বল বলতে মাত্র পকেটে থাকা তেরো টাকা, একটি সাইকেল খিদে আর অদম্য মনোবল। এই চারটি একত্র করেই বিহারের মধুবনি থেকে এ রাজ্যের দেগঙ্গায় বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলেন শফিকুল মণ্ডল। ১৩ দিন সাইকেলে ৬৭২ কিলোমিটার পেরিয়ে রবিবার বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরে অসুস্থ হয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন ৪২ বছরের শফিকুল। বাড়িতে কোয়ারান্টিনে থাকবেন আপাতত ১৪ দিন।

শফিকুলের বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী ও দুই ছেলে।রবিবার দেগঙ্গা থানার কাছেই শফিকুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুলিশকর্মীরা তাঁকে উদ্ধারের পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পৌঁছে দেন অম্বিকানগরের বাড়িতে। দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, শফিকুললকে প্রথমে বিশ্বনাথপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করানো হয়। এক রকম না-খেয়েই গত ১৩ দিন ধরে সাইকেলে চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন শফিকুল। থানাতেই তাঁকে ভাত দেওয়া হয়। অবশেষে সাইকেলে চড়েই রবিবার দুপুরে বাড়িতে ফেরেন শফিকুল।

শফিকুল বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম কিছুদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু লকডাউনের মেয়াদ পরপর বেড়েই চলেছে। দেড় মাসের মধ্যে লকডাউন না-ওঠায় বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিই। ওখানে কাজ নেই। টাকাপয়সাও ফুরিয়েছে। হাতে ছিল মাত্র ১৩ টাকা। কিন্তু ফিরব কী ভাবে, তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। শেষে কারখানার সামনের এক চায়ের দোকানদারের কাছে সাইকেলটা চাইলাম। উনি দিলেন। ২৭ এপ্রিল কারখানা থেকে ১৩ জন রওনা দিই।’

অন্য শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। ওই শ্রমিকদের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। এর পাশাপাশি শফিকুল আরো বলেন, ‘এই ১৩ দিন প্রায় না-খেয়েই ছিলাম। পেটে খিদে। তার উপরে ১৩ দিন ধরে একটানা সাইকেল চালানোর ধকল। এর ফলে দেগঙ্গা থানার কাছেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। পুলিশকর্মীদের অজস্র ধন্যবাদ। ওঁরা আমাকে উদ্ধার করেছেন। খেতেও দিয়েছেন। বাড়ি ফিরেছি, এটাই বড় ভাগ্য।’