এই উপায়ে করোনার হাত থেকে রক্ষা করে আপনার সন্তানকে রাখুন সুস্থ

করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত গোটা বিশ্ব। বেড়েই যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যু। ভারতে নতুন করে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নয়াদিল্লি এবং তেলেঙ্গানায় দুজনের দেহে করোনা ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, মাঝেমধ্যেই হাত ধুয়ে নিন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন। চোখ, নাক ও মুখ হাত দেবেননা। জ্বর, সর্দি থাকলে এবং নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। সচেতন থাকুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

করোনা ভাইরাসে মানুষ এবং পশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই ভাইরাসের ফলে মানবদেহে শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণ, সাধারণ সর্দি-কাশি, মিডল-ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম, হতে পারে। সদ্য যে করোনাভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, তার ফলে যে সংক্রামক রোগ হয়, সেটি হল COVID-19। COVID-19-এর উপসর্গ হল জ্বর, শুকনো কাশি এবং ক্লান্তি। ব্যথা-যন্ত্রণা, নাকবদ্ধ, নাক থেকে জ্বল পড়া, ডায়েরিয়া অথবা গলা ব্যথাও হতে পারে।

এগুলি প্রথমে, কম থাকে পরে ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে অনেকক্ষেত্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তার কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী সাধারণ চিকিৎসাতেই সেরে ওঠেন। তবে প্রতি ছজনের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুরু হয় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা। যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদপিণ্ডের সমস্যা, ডায়েবেটিস রয়েছে, তাঁদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। এই সম্ভাবনা বয়স্কদেরও রয়েছে। যারা করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ২ শতাংশের মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সুরক্ষিত থাকার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সুপারিয়াগুলি করেছেন সেগুলি হল, জল ও সাবান দিয়ে হাত ধোবেন। সামনে কেউ হাঁচলে বা কাশলে তাঁর সঙ্গে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখবেন। চোখ, নাক ও মুখে হাত দেবেননা। হাঁচি বা কাশির সময় হাত, টিস্যু দিয়ে মুখ-নাক চাপা দিয়ে রাখবেন। শরীর ভালো না না লাগলে চিকিৎসকের কাছে যান। কাশি বা অন্যান্য শ্বাসজনিত সমস্যা না থাকলে মেডিক্যাল মাস্ক পরার প্রয়োজেন নেই। তবে যে ব্যক্তিদের COVID-19-এর উপসর্গ আছে এবং তাঁদের কাছে যারা আছেন, তাঁদের মাস্ক পরতে হবে। মনে রাখবেন, ধূমপান করবেন না, আয়ুর্বেদিক ওষুধ নেবেন না, একাধিক মাস্ক পরবেন না, নিজেই কোনো ওষুধ খাবেন না।

এই পরিস্থিতিতে আপনার সন্তানকে কিভাবে সুস্থ্য রাখবেন জেনে নিন:

মুম্বইয়ের ক্লাউড নাইন হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ বিনয় জোশী বলেছেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে লাভ নেই, কিছু বেসিক হাইজিন মানতে হবে। অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে কোচলে হাত ধুতে হবে। আঙুলের খাঁজ পরিষ্কার রাখবেন। সন্তান স্কুলে অথবা বাইরে গেলে ভালো সন্তানকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে বলুন। সহপাঠীর জ্বর হলে খুব কাছে না ঘেঁষাই ভালো।

হ্যান্ড শেক না করলেই ভালো। যে সব দেশে করোনার আক্রমণ হচ্ছে, সন্তান সদ্য সেই দেশ থেকে ফিরলে আপনার সন্তানকে কদিন স্কুলে পাঠাবেননা। স্কুলের ক্লাসরুমের টেবিল চেয়ার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, জীবাণু নাশক দিয়ে মেঝে, দেওয়াল, বাথরুম পরিষ্কার রাখা। সন্তানের হাঁচি বা কাশি হলে মুখে মাস্ক পরার পরামর্শ দিন। জ্বর হলে কোনও অনুষ্ঠান এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

তথ্য: সংগৃহীত